বাজেট ২০২৬-২৭: দাম বাড়ছে যেসব পণ্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬

দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একগুচ্ছ পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।  এর ফলে সিগারেট, বিলাসবহুল গাড়ি, আমদানিকৃত খাদ্যসামগ্রী ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে, তা নিচে দেওয়া হলো:

তামাকজাত পণ্য ও গাড়ি

  • সিগারেট: খুচরা বাজারে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ছে।  নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরে ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো: নিকোটিন পাউচ আমদানিতে খুচরা পর্যায়ে ৪০ শতাংশ এবং হিটেড টোব্যাকো পণ্যে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • জ্বালানিচালিত গাড়ি: পরিবেশ দূষণ কমাতে ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ক্ষমতার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলচালিত গাড়ির মোট করভার ১৩২.৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫.৮৮ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।  ফলে মধ্যম সারির গাড়ির দাম বাড়বে।

খাদ্য ও গৃহস্থালি পণ্য

  • আমদানিকৃত কাজুবাদাম: অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত—উভয় ধরনের কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • আমদানিকৃত পাঙাশ ফিলেট: দেশীয় মৎস্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে সুবিধা দিতে আমদানিকৃত পাঙাশ মাছের ফিলেটের ওপর নতুন করে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হচ্ছে।

  • ওয়াশিং মেশিন: স্থানীয় ওয়াশিং মেশিন শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বিদেশি সব ধরনের হাউজহোল্ড ওয়াশিং মেশিন আমদানিতে নতুন করে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

শিল্প কাঁচামাল ও নির্মাণ সামগ্রী

  • জিপসাম বোর্ড ও শিট: দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় জিপসাম বোর্ড ও শিট আমদানিতে ২০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • কপার ও মেটাল: কপার টিউব আমদানির শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং কপারের তার আমদানিতে নতুন করে ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্কের প্রস্তাব করা হয়েছে।  এছাড়া কোল্ড-রোল্ড কয়েল ও শিট আমদানিতে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।

  • প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং: পিভিসি রেজিন এবং পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কাগজ, মোটর ও অন্যান্য খাত

  • গ্রিজপ্রুফ ও গ্লাসিন পেপার: দুই ধরনের কাগজেরই আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং অতিরিক্ত ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।

  • ট্রান্সফরমার ও ডিসি মোটর: ১ কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতার ট্রান্সফরমার আমদানিতে শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং ১২০০ ওয়াটের কম ক্ষমতার ডিসি মোটর আমদানিতে ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্কের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • ভুট্টা জাতীয় পণ্য (মেইজ স্টার্চ): খাদ্য, টেক্সটাইল ও ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত মেইজ স্টার্চের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • সাইকেল যন্ত্রাংশ ও টেক্সটাইল: সাইকেলের যন্ত্রাংশ ‘ফ্রি হুইল’ আমদানিতে শুল্ক ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ ও ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক এবং পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার আমদানিতে নতুন করে ৫ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই শুল্ক ও কর বৃদ্ধির ফলে বাজারে আমদানিকৃত বিদেশি পণ্যের দাম বাড়লেও, তা স্থানীয় শিল্প ও দেশীয় উৎপাদকদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বড় সহায়তা করবে।