সব শ্রেণির মানুষকে বাজেট পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২৬
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) বাজেট হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা দেশের প্রতিটি মানুষকে বাজেট চিন্তায় আনার চেষ্টা করেছি। কেউই এই বাজেটের আওতার বাইরে নেই বলে আমি মনে করি না।”
তিনি বলেন, এবারের বাজেট প্রণয়নে সরকার সর্বোচ্চ শ্রম ও আন্তরিকতা দিয়েছে। তবে বাজেট কতটা সফল হয়েছে, তার মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত দেশের জনগণই করবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেট একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে প্রণয়ন করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট।
তিনি বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। সীমিত সময়ের মধ্যেও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে সেই প্রত্যাশা পূরণের।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিকে আরও গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা এতদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারার বাইরে ছিলেন, তাদেরও বাজেটের আওতায় আনতে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, শুধু এক বছরের পরিকল্পনা নয়, এবারের বাজেটে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়েছে। এই রোডম্যাপের ভিত্তিতে আগামী বছরগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের পরিকল্পনার দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন। আমরা স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে চাই।”
জবাবদিহিতার প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকার সেই নীতিকে সামনে রেখেই কাজ করছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত বাজেট দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



