সীমান্তে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একমত বিজিবি-বিএসএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)।  দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় উভয় পক্ষ।

গত ৮ থেকে ১১ জুন ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিএসএফ সদর দপ্তরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  সম্মেলন শেষে প্রকাশিত যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।

যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে সম্মেলনটি সৌহার্দ্যপূর্ণ, ইতিবাচক ও ভবিষ্যতমুখী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সীমান্ত অপরাধ দমনে গুরুত্ব

বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার এই প্ল্যাটফর্মে সীমান্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনায় মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান, অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম, মানবপাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় প্রাণহানি, অনিচ্ছাকৃত বা জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং সীমান্তে আস্থা-নির্মাণমূলক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়।

যৌথ টহল ও তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারে যৌথ টহল বৃদ্ধি, নজরদারি শক্তিশালী করা, তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা উন্নত করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে দুই বাহিনী।

সীমান্তবাসীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও বিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে অটল দুই বাহিনী

বিজিবি ও বিএসএফ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, বিদ্রোহী কার্যকলাপ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সম্মেলনের ফলাফল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল সীমান্ত নিশ্চিত করতে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং পেশাগত সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নভেম্বরে ঢাকায় পরবর্তী সম্মেলনের প্রস্তাব

১১ জুন যৌথ আলোচনাপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে চার দিনব্যাপী সম্মেলন শেষ হয়।

উভয় প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করেছে, সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সমঝোতাগুলো সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে এবং বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন ২০২৬ সালের নভেম্বরে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।