কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের নতুন ফাঁদে বাংলাদেশিরা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২৬

ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি যুবকদের বিদেশে পাঠানোর পর সাইবার প্রতারণা চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।  কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে তাদের জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সেখানে শারীরিক নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায় এবং অমানবিক পরিবেশে আটকে রেখে কাজ করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।  সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিবাসন প্রতারণার এ প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক মাত্রা পেয়েছে।

সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরে আসা এক ভুক্তভোগী জানান, চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাকে বিদেশে পাঠানোর পর এক চীনা নাগরিকের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।  সেখানে তাকে বিভিন্ন ধরনের শ্রমসাধ্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়।  নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ না করলে মারধর করা হতো। এমনকি পরিবারের সদস্যদের কাছে ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে অর্থ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেছেন।  অন্যদিকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের হিসাবে, চলতি জুন মাসের মাত্র চার দিনেই ২২১ জন ভুক্তভোগী দেশে ফিরেছেন।  তাদের অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়ে নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরে এসেছেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দালাল চক্র তাদের ভিজিট ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠায়।  সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।  বরং স্থানীয় দালাল ও এজেন্টদের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।  এসব কেন্দ্রে শারীরিক নির্যাতন, বিদ্যুতের শক এবং টর্চার সেলে আটকে রেখে কাজ করানোর অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মহামারির পর অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা চক্রগুলো আরও বিস্তৃত হয়েছে।  জাতিসংঘের এক বিশেষ দূত কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল অঞ্চলের স্ক্যাম কম্পাউন্ডগুলোকে ‘নরকসদৃশ’ বলে মন্তব্য করেছেন।  মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এসব কর্মকাণ্ডে প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে।

এদিকে বাংলাদেশে মানবপাচার ও প্রতারণার ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে।  কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পাচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।  সম্প্রতি এক আসামি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বাংলাদেশিদের কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে কম্বোডিয়া সরকারও সম্প্রতি দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে এক হাজারের বেশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।  বিভিন্ন প্রদেশ থেকে শত শত বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।  অভিযানে বিপুলসংখ্যক কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।