ILR ‘আজীবনের সুবিধা’, তাই নতুন করে হিসাব কষছে যুক্তরাজ্য
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২৬
যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার প্রদানের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্রভাব নতুন করে মূল্যায়ন করছে সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, ILR একটি “আজীবনের সুবিধা”, যা সরকারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় তৈরি করে। তাই ভবিষ্যতে কতজনকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নিতে চায় সরকার।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটির বৈঠকে শাবানা মাহমুদ বলেন, অভিবাসন নীতি নির্ধারণে শুধু শ্রমবাজারের তাৎক্ষণিক চাহিদা বিবেচনা করলেই হবে না। বরং স্থায়ী বসবাসের অধিকার দেওয়ার ফলে ভবিষ্যতে সরকারি ব্যয় ও জনসেবার ওপর কী প্রভাব পড়বে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ILR পাওয়ার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাজ্যে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সামাজিক সুবিধা গ্রহণের পথও উন্মুক্ত হয়। ফলে এর আর্থিক দায় বহু বছর ধরে রাষ্ট্রকে বহন করতে হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান অভিবাসন নীতির আওতায় ভবিষ্যতে কতজন ব্যক্তি ILR পাওয়ার যোগ্য হবেন এবং এর ফলে সরকারি ব্যয় কতটা বাড়তে পারে, তা বিশ্লেষণ করছে সরকার। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অভিবাসন নীতি প্রণয়ন করা হবে।
বার্নহাম সরকারের নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় ইতোমধ্যে স্থায়ী বসবাসের পথ আরও নিয়ন্ত্রিত করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিতে অধিকাংশ নতুন অভিবাসীর ক্ষেত্রে ILR-এর আবেদন করার আগে যুক্তরাজ্যে বসবাসের সময়সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, দেশের অর্থনীতিতে অবদান এবং কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণের বিষয়গুলোও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হতে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ILR শুধু স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের সুযোগই দেয় না; বরং পরবর্তীতে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন করার পথও তৈরি করে। একই সঙ্গে সরকারি সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রবেশাধিকারও বাড়ে। ফলে সরকার এখন এই মর্যাদা প্রদানের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে চাইছে।
অন্যদিকে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস, কাজ ও কর প্রদানকারী ব্যক্তিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের সুযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। তাদের মতে, অভিবাসীদের অর্থনৈতিক অবদান এবং শ্রমবাজারে ভূমিকার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ব্যয় কমানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই বর্তমানে বার্নহাম সরকারের অন্যতম বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ। শাবানা মাহমুদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভবিষ্যতে ILR প্রদানের ক্ষেত্রে মানবিক ও প্রশাসনিক বিবেচনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাবও সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



