বিদেশে ভিসা ফি পাঠাতে নতুন সুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬
বিদেশে ভিসা ও কনস্যুলার ফি পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ ব্যবস্থার ফলে ভিসা আবেদনকারীদের ভোগান্তি কমবে এবং বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে স্থানীয় ভিসা প্রসেসিং এজেন্টরা অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা ভিসা ও কনস্যুলার ফি সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, তাদের বিদেশস্থ কার্যালয় অথবা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পাঠাতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ভিসা ফি সংগ্রহের ক্ষেত্রে দূতাবাস নির্ধারিত হার অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি দূতাবাস বা তাদের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের ইস্যুকৃত ইনভয়েস সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক থাকবে। প্রতিটি আবেদনকারীর কাছ থেকে আদায় করা ফি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
এ ছাড়া বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে প্রযোজ্য কর ও অন্যান্য সরকারি দায়-দায়িত্ব যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, নতুন এ ব্যবস্থার ফলে ভিসা ও কনস্যুলার ফি পরিশোধ এবং বিদেশে অর্থ প্রেরণের পুরো প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনিয়ম প্রতিরোধেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতদিন অনেক আবেদনকারীকে ভিসা ফি বিদেশে পাঠানোর জন্য নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ পাঠানোর প্রয়োজন পড়ত, যা সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যভাবে অর্থ পাঠানো সম্ভব হবে।
তাদের মতে, এই উদ্যোগ ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করবে। পাশাপাশি দালালচক্রের অপতৎপরতা কমিয়ে আবেদনকারীদের জন্য একটি সহজ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লাখো মানুষের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।



