৩ পরীক্ষার্থীর জন্য ১১ শিক্ষক, তবুও পাস করেনি কেউ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬
জামালপুরের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন পরীক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক। এত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টির তিন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
শতভাগ ফেল করা তিন প্রতিষ্ঠান হলো—সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদরাসা।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুরের কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত। বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তবে তিনজনই ফেল করেছে।
এটি বিদ্যালয়টির প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মামুন-অর-রশীদ।
তিনি বলেন, কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন এবং এবারই প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে, সরিষাবাড়ীর ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-ও এমপিওভুক্ত। প্রতিষ্ঠানটিতে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এখান থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও একজনও পাস করতে পারেনি।
সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক রয়েছেন এবং ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।
এদিকে বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদরাসা থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
ফলে জামালপুরের এই তিন প্রতিষ্ঠানে এবার শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। বিশেষ করে তিন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ১১ শিক্ষক থাকার পরও কারও পাস না করার বিষয়টি নতুন করে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান, পাঠদানের কার্যকারিতা ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।



