২০৩০: মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ!

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৬

আগামী চার বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও বড় হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়ে প্রায় ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এ সময় অর্থনীতির আকারে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের ‘দ্য ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার গ্লোবাল ইকোনমি ইন ২০৩০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’-এর পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার বছরে বিশ্ব অর্থনীতির আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ প্রবৃদ্ধির বড় অংশ আসবে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো থেকে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অগ্রগতি

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার প্রায় ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিকে পেছনে ফেলার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিশেষ করে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বড় হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উঠে এসেছে। জনসংখ্যার আকার, উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ, রপ্তানি, প্রবাসী আয় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে এ পূর্বাভাস বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারার ওপর ভিত্তি করে করা। অর্থনীতির এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক সংস্কার অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

শীর্ষে থাকবে আমেরিকা, দ্বিতীয় চীন

২০৩০ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি থাকবে আমেরিকা। দেশটির নামমাত্র জিডিপি ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে চীন, যার অর্থনীতির আকার হতে পারে ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার

তৃতীয় অবস্থানে থাকবে জার্মানি। দেশটির সম্ভাব্য জিডিপি হতে পারে ৬ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার

২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে আমেরিকা, চীন ও জার্মানির সম্মিলিত অর্থনীতি ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়তে পারে। এই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখবে চীন।

তবে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দৌড়ে জার্মানির সঙ্গে ভারতের ব্যবধান খুবই সামান্য থাকবে। ২০৩০ সালে জার্মানির সম্ভাব্য জিডিপি ৬ দশমিক ১৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ভারতের ৬ দশমিক ১৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। অর্থাৎ দুই দেশের ব্যবধান মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে নামমাত্র জিডিপির হিসাবে ভারত জার্মানিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি অনুযায়ী হিসাব করলে ভারত ইতিমধ্যেই জার্মানির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বড় অর্থনীতি।

বাড়বে এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি

২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন ৫৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি হবে।

চীন ও ভারতের পর এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে জাপান। দেশটির জিডিপি প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এরপর থাকবে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। দেশ দুটির সম্ভাব্য জিডিপি যথাক্রমে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার

একসময় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ছিল জাপান। তবে কয়েক দশকের ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে দেশটি অবস্থান হারিয়েছে। ২০১০ সালে জাপানকে ছাড়িয়ে যায় চীন। এরপর ২০২৪ সালে জার্মানিও জাপানকে ছাড়িয়ে যায়।

ইউরোপের অর্থনীতিও থাকবে শক্তিশালী

২০৩০ সালে ইউরোপের সম্মিলিত অর্থনীতির আকার প্রায় ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। অর্থাৎ বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ থাকবে ইউরোপের দখলে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত নামমাত্র জিডিপি ২৬ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হবে জার্মানি। এরপর থাকবে ফ্রান্স ও ইতালি। দেশ তিনটির সম্ভাব্য জিডিপি যথাক্রমে ৬ দশমিক ২, ৪ ও ৩ ট্রিলিয়ন ডলার

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে থাকবে যুক্তরাজ্য। ২০৩০ সালে দেশটির জিডিপি প্রায় ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। এরপর থাকবে রাশিয়া, যার অর্থনীতির আকার হতে পারে ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার

তবে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রাশিয়া হবে এমন কয়েকটি দেশের একটি, যাদের অর্থনীতি এ সময়ে সংকোচনের মুখে পড়তে পারে।