এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণে ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫, জিপিএ-৫ পেল ৩০৭৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, সারাদেশে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোট ১০ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৮টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড এবং ৫৫ হাজার ২৫৯টি খাতার নম্বর পরিবর্তন হয়েছে।
কোন বোর্ডে কত পরিবর্তন
ঢাকা বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৮ হাজার ৯৯৯ জনের গ্রেড ও ২১ হাজার ৬৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ৩৩৭ জন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯০৬ জন।
রাজশাহী বোর্ডে ৩৯ হাজার ৭৬২ জন আবেদন করে। ৯৮ হাজার ৭১০টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৬৩১ জনের গ্রেড ও ১ হাজার ৪০০ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ১১১ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৭ জন।
কুমিল্লা বোর্ডে ৩৫ হাজার ৯২৯ জন আবেদন করে। ৯১ হাজার ৪৯৪টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ২ হাজার ১৫৫ জনের গ্রেড ও ৪ হাজার ৭০ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ৩৩৬ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৭ জন।
যশোর বোর্ডে ২৮ হাজার ৮৬২ জন আবেদন করে। পুনর্নিরীক্ষণ করা হয় ৭৪ হাজার ৭১৭টি খাতা। এতে ১ হাজার ৬৮৪ জনের গ্রেড ও ১ হাজার ৭৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ৩৮০ জন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮২ জন।
চট্টগ্রাম বোর্ডে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ১৮৫ জনের গ্রেড ও ২ হাজার ৯৭৫ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ১৯০ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৩ জন।
বরিশাল বোর্ডে ১৭ হাজার ২৮৩ জন আবেদন করে। ৫০ হাজার ২৯৩টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ৫ জনের গ্রেড ও ৩ হাজার ১১৮ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ৭৯ জন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১২ জন।
সিলেট বোর্ডে ২০ হাজার ৭৮৩ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। ৫০ হাজার ৭১৩টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ২৮৬ জনের গ্রেড ও ২ হাজার ৫৮৭ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ১৮৬ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২১ জন।
দিনাজপুর বোর্ডে ৩৭ হাজার ২৯৬ জন আবেদন করে। ৮৯ হাজার ২৮৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৩ হাজার ৩৫৪ জনের গ্রেড ও ৫ হাজার ৬৩৬ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ৮৬৭ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭৫ জন।
ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। ৭১ হাজার ৬৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৫ হাজার ৩২১ জনের গ্রেড ও ৬ হাজার ৫০৮ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ১৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৭৭ জন।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজার ১২০ জন আবেদন করে। ১ লাখ ৩ হাজার ৫০৩টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ৫৪৯ জনের গ্রেড ও ৫ হাজার ৯৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ২৫৫ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৩ জন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজার ৩০৭ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। ৩৪ হাজার ৩০৫টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৬৬৭ জনের গ্রেড ও ১ হাজার ১৭২ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ৬৬৪ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৬ জন।
সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন ময়মনসিংহে
পুনর্নিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাস করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয়েছে ময়মনসিংহ বোর্ডে। এ বোর্ডে ১ হাজার ১৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছে। এরপর দিনাজপুর বোর্ডে ৮৬৭ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৬৬৪ জন ফেল থেকে পাস করেছে।
নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকেও ময়মনসিংহ বোর্ড এগিয়ে। এ বোর্ডে ৭৭৭ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এরপর ঢাকা বোর্ডে ৯০৬ জন এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ২৯৩ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।



