পার্টিতে যাওয়া নিয়ে বিরোধ, শ্বশুর হত্যায় পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

রাতে পার্টিতে যাওয়া নিয়ে আপত্তি, বাড়ির ভেতরে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি এবং ব্যক্তিগত খরচের জন্য শ্বশুরের কাছে টাকা চাওয়া—এসব বিষয় নিয়ে ক্ষোভ জমেছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের এক ধনী পরিবারের পুত্রবধূর। শেষ পর্যন্ত সেই ক্ষোভ থেকেই শ্বশুরকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার রাতে কানপুরে নিজের ফ্ল্যাটে খুন হন ৬৩ বছর বয়সী ওষুধ ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচা। তার শরীরে ছুরির ২৬টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় বিনীতের ৩৬ বছর বয়সী পুত্রবধূ শালুর বিরুদ্ধে সাবেক এক গৃহকর্মীকে ভাড়া করে হত্যার পরিকল্পনা করার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর পরিবারের সাবেক কর্মী ৩০ বছর বয়সী বিশাল ও তার সহযোগী রাজ কিশোরের ওপর সন্দেহ হয়। রবিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে বিশাল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দাবি, শালু তাকে হত্যার বিনিময়ে ৬ লাখ রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তদন্তে শালু অভিযোগ করেন, তার শ্বশুর বাড়ির ভেতরে সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করতেন। রাতে পার্টিতে যাওয়া কিংবা দেরিতে বাড়ি ফেরাও তিনি পছন্দ করতেন না। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত খরচের জন্যও শ্বশুরের কাছে টাকা চাইতে হতো।

যেভাবে হত্যার পরিকল্পনা

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ২৮ জুলাই পার্টি থেকে দেরিতে ফেরার পর শ্বশুরের সঙ্গে শালুর তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপরই তিনি বিশালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশালকে ফ্ল্যাটের একটি নকল চাবিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত শনিবার রাতে শালু তার স্বামী সুব্রত ও সন্তানকে নিয়ে পার্টিতে যাওয়ার পর বিশাল ও রাজ কিশোর ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। নিরাপত্তারক্ষী প্রথমে তাদের বাধা দিলেও ফোনে শালুর সঙ্গে কথা বলার পর তাদের ঢুকতে দেন।

তদন্তকারীদের দাবি, প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে বিনীতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরে তাকে ছুরি দিয়ে ২৬ বার আঘাত করা হয়।

রাত ৩টার দিকে শালু ও সুব্রত বাড়ি ফিরে বিনীতকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন।

ফ্ল্যাট থেকে কোনো মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি না হওয়ায় শুরু থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, এটি ডাকাতির ঘটনা নয়; পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে হত্যার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।