এক ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশে যাওয়ার সুযোগ

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৯:৫৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে একটি ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ দিতে নতুন একটি ভ্রমণ ভিসা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)। ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ চালু হলে পর্যটকেরা একটি ভিসা নিয়েই সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত ভ্রমণ করতে পারবেন।

জিসিসির মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই জানিয়েছেন, একীভূত এই ভিসা শিগগিরই চালু হতে পারে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড হিস্ট্রি ডায়ালগ ২০২৬’-এর বিশেষ অধিবেশনে আল-বুদাইউই এ তথ্য জানান।

নতুন এই ভিসা ব্যবস্থা ইউরোপের শেনজেন ভিসার মতো কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ একটি ভিসার আওতায় ছয়টি উপসাগরীয় দেশে পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ থাকবে।

তবে ভিসাটি ঠিক কবে চালু হবে, আবেদনের খরচ কত হবে, কত দিন কার্যকর থাকবে কিংবা আবেদনের প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এর আগে খালিজ টাইমস জানিয়েছিল, একীভূত উপসাগরীয় পর্যটন ভিসাটি অনুমোদিত হয়েছে। বর্তমানে এটি বাস্তবায়নের কাজ সংশ্লিষ্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করছে।

যেভাবে শুরু

২০২৩ সালের অক্টোবরে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পর্যটনমন্ত্রীরা সর্বসম্মতভাবে একীভূত পর্যটন ভিসার প্রস্তাব অনুমোদন করেন। পরের মাসে জিসিসির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরাও একীভূত উপসাগরীয় পর্যটন ভিসার অনুমোদন দেন।

এরপর ২০২৫ সালের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মাররি খালিজ টাইমসকে জানিয়েছিলেন, একক উপসাগরীয় পর্যটন ভিসা অনুমোদিত হয়েছে এবং এখন এটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

আল মাররি তখন এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক সংহতি জোরদার এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে একক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তখনও ভিসা চালুর নির্দিষ্ট তারিখ, খরচ ও মেয়াদ জানানো হয়নি।

আমিরাত-বাহরাইনে ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেল’

জিসিসির মহাসচিব একই সঙ্গে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মানুষের চলাচল সহজ করতে নেওয়া অন্যান্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছেন।

এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেল’ প্রকল্প অন্যতম। রিয়াদের সংলাপে আল-বুদাইউই বলেন, এই ব্যবস্থায় যাত্রীরা বাহরাইনে পাসপোর্ট ও অভিবাসন-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্য কোনো শহরে পৌঁছানোর পর পুনরায় একই ধরনের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন না।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমিরাত ও বাহরাইন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওয়ান-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেলার্স’ প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিকভাবে আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে এর আওতায় আনা হয়েছে।

ইলেকট্রনিক সংযোগ, বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই ও স্বয়ংক্রিয় প্রবেশপথের মাধ্যমে যাত্রীদের তথ্য আগেই যাচাই করা হয় এ ব্যবস্থায়।

তবে ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেল’ এবং একীভূত পর্যটন ভিসা দুটি আলাদা উদ্যোগ। প্রথমটি মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোর নাগরিকদের যাতায়াত সহজ করার জন্য, আর ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ বিদেশি পর্যটকদের ছয়টি দেশে ভ্রমণের সুযোগ সহজ করার উদ্দেশ্যে চালু করা হচ্ছে।