আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে ফিরতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে ফিরতে পারেননি অনেক বাংলাদেশি কর্মী। এর মধ্যে যাঁদের আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাঁদের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর। আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পুনরায় সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যেসব কর্মী নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে ফিরতে পারেননি এবং এর মধ্যে তাঁদের আকামার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাঁরা পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রবেশপ্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

তবে এ সুবিধা পেতে কী ধরনের শর্ত প্রযোজ্য হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি।

অভিবাসন ব্যয় কমানোর তাগিদ

আলোচনা সভায় বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেখানে তিন লাখ টাকায় বিদেশে যাওয়া সম্ভব, সেখানে কর্মীদের কাছ থেকে সাত থেকে আট লাখ টাকা আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বৈধ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করার নির্দেশনাও দেন। বিদেশে যাওয়ার খরচ মেটাতে গিয়ে কর্মীদের যেন দীর্ঘদিন ঋণের বোঝা বহন করতে না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।

ভিসা যাচাইয়ে আধুনিক প্রযুক্তি

বিদেশগামী কর্মীদের সেবা সহজ করতে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো—বিএমইটিতে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করার কাজ চলছে বলে জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে ভিসার বৈধতা যাচাই আরও দ্রুত ও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া কর্মীদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ই-মেইল সেবা চালু এবং এ বিষয়ে প্রচার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বিদেশগামী কর্মীদের গন্তব্য দেশের আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের অবস্থান

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের বিদ্যমান সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে দেশটির নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বসবাস করছেন। দুই দেশের সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রমবাজারে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ। এ ছাড়া বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা সহজ করা, পরীক্ষার ফি কমানো এবং বিএমইটির জনশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবি জানান।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে ফিরতে না পারা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মন্ত্রীর এ ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির বার্তা। তবে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিজেদের আকামা, ভিসা ও প্রবেশের অনুমতি সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

সূত্র: প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত আলোচনা সভার বক্তব্য