ইউরোপের দোরগোড়ায় অর্ধকোটি অভিবাসী

গ্রিসের কঠোর হুঁশিয়ারি ও নতুন আইনি জটিলতা

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৫:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২৬

উত্তর আফ্রিকার উপকূলে ইউরোপে প্রবেশের অপেক্ষায় দিন গুনছে লাখ লাখ অভিবাসনপ্রত্যাশী। গ্রিস সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে লিবিয়া উপকূলে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের জমায়েত ভূমধ্যসাগরের নিরাপত্তা ও ইউরোপের অভিবাসন নীতিকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

লিবিয়ায় অভিবাসীদের পাহাড়প্রমাণ ভিড়

গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস সতর্ক করে জানিয়েছেন, বর্তমানে শুধু লিবিয়াতেই অবস্থান করছে ৫ লাখ ৫০ হাজার অভিবাসী। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার। চাদ, মিসর, নাইজার, নাইজেরিয়া এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান থেকে আসা এই মানুষগুলো মূলত ত্রিপোলি ও বেনগাজি শহরে অবস্থান করছেন। তাদের সবারই লক্ষ্য—সুযোগ বুঝে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানো।

গ্রিসের কঠোর অবস্থান: জেল অথবা নিজ দেশে ফেরা

অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় গ্রিস সরকার এবার নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে। অভিবাসনমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন:

  • সীমান্ত কড়াকড়ি: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ‘ফ্রন্টেক্স’-এর সহযোগিতায় সমুদ্রপথ সিল করে দেওয়া হবে যাতে কোনো নৌকা যাত্রা শুরু করতে না পারে।

  • শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: অবৈধভাবে প্রবেশকে সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এর সাজা হিসেবে ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার ইউরো জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

  • ইলেকট্রনিক নজরদারি: আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে অভিবাসীদের ইলেকট্রনিক নজরদারিতে রাখা হবে। দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশ না ছাড়লে হতে পারে ৫ বছরের জেল

মন্ত্রী প্লেভরিস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “গ্রিসের সীমান্ত খোলার কোনো কারণ নেই। আবেদন নাকচ হলে অভিবাসীদের সামনে কেবল দুটি পথ খোলা—কারাগার অথবা নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন।”

ব্রিটেনের রেকর্ড ভাঙা অনুপ্রবেশ

এদিকে কেবল গ্রিস নয়, অভিবাসন সংকটে হিমশিম খাচ্ছে ব্রিটেনও। ২০১৮ সাল থেকে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে দেশটিতে প্রবেশকারীর সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ ডোভার উপকূলে আরও ৭০ জন আটক হওয়ার পর এই সংখ্যা এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ অভিবাসী গ্রিস হয়ে ইউরোপে ঢুকেছেন, যাদের বড় একটি অংশের গন্তব্য ছিল ব্রিটেন।

সংকট কেন আরও ঘনীভূত হচ্ছে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে সুদানের সংঘাত ও আফ্রিকার অর্থনৈতিক অস্থিরতা মানুষকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করছে, অন্যদিকে ইউরোপের দেশগুলোর কঠোর আইন ও সীমানা প্রাচীর তাদের যাত্রাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। একদিকে মানবিক দায়বদ্ধতা আর অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে এখন দ্বিধাবিভক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো।