ফ্রান্সে ‘বিপজ্জনক’ বিদেশিদের দীর্ঘমেয়াদি আটকের বিল সিনেটে পাস

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১০:২২ পূর্বাহ্ণ, মে ২৩, ২০২৬

ফ্রান্সে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশিদের প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখার সময়সীমা বাড়ানোর একটি বিল অনুমোদন করেছে দেশটির সিনেট।

বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটি পাস হয়। এর আগে দুই সপ্তাহ আগে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতেও এটি অনুমোদিত হয়েছিল। তবে দুই কক্ষের গৃহীত সংস্করণে কিছু পার্থক্য থাকায় চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য সংসদ সদস্য ও সিনেটরদের নিয়ে একটি যৌথ কমিশন গঠন করা হবে।

প্রস্তাবিত আইনে ফরাসি ভূখণ্ড ত্যাগের নির্দেশ পাওয়া এবং জননিরাপত্তার জন্য “বাস্তব, বর্তমান ও গুরুতর” হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশিদের প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা সাত মাস বা ২১০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

বর্তমানে ফ্রান্সে প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৯০ দিন। আর সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত বিদেশিদের ক্ষেত্রে তা ১৮০ দিন পর্যন্ত প্রযোজ্য। নতুন আইনে সেই সীমাও বাড়িয়ে ২১০ দিন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে কারা এই বিশেষ বিধানের আওতায় পড়বেন, তা নিয়ে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ও সিনেটের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

সরকার ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্যরা চান, হামলার মতো অপরাধে অন্তত তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিদেশিদেরও এই আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যদিকে সিনেট কেবল গুরুতর অপরাধ এবং কমপক্ষে পাঁচ বছরের সাজাযোগ্য অপরাধে দণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরো ন্যুনেজ বিলটির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ২০১৭ সাল থেকে ফ্রান্সে ৩৪টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে এবং এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।

সিনেট বিলটিতে আরও একটি বিধান যুক্ত করেছে, যাতে একই ব্যক্তিকে বারবার প্রশাসনিক আটকে রাখার মোট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩৬০ দিন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ৫৪০ দিন পর্যন্ত আটক রাখা যাবে।

এ ছাড়া আচরণগত সমস্যাযুক্ত উগ্রপন্থিদের জন্য মনোরোগ মূল্যায়নের ব্যবস্থাও বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিলটি নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বামপন্থি দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এটি অতিরিক্ত নিরাপত্তাকেন্দ্রিক এবং মানবাধিকারবিরোধী পদক্ষেপ।

ফরাসি সোশ্যালিস্ট পার্টির সিনেটর ক্রিস্তফ শাইয়ু বলেন, “আটকের সময়সীমা বাড়ালেই যে বহিষ্কার কার্যকরভাবে বাড়বে, এমন নয়।”

অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের সিনেটর এরভে রেনো বলেন, “জননিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিদেশিদের বহিষ্কার করতে প্রশাসনিক আটক সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।”

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ বিদেশিকে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্তে মুক্তি পেয়েছেন।

সংগঠনগুলোর দাবি, প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রগুলো এখন দ্রুত বহিষ্কারের জায়গার বদলে দীর্ঘমেয়াদি আটকের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস/এএফপি