নিজ দেশে নিপীড়নের আশঙ্কার কথা বললে ভিসা মিলবে না
নতুন নির্দেশনায় ট্রাম্প প্রশাসন
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২৬
সম্ভাব্য রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ আরও কঠিন করতে নতুন ভিসা নীতিমালা চালু করেছে মার্কিন প্রশাসন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ভিসা আবেদনকারী যদি নিজ দেশে নির্যাতন, নিপীড়ন বা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন, তাহলে তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিশ্বের বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পাঠানো এক কূটনৈতিক বার্তায় এ নির্দেশনা দিয়েছে। বার্তাটি পর্যালোচনা করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
নতুন নিয়মটি মূলত ‘নন-ইমিগ্র্যান্ট’ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এর আওতায় পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়িক ও অস্থায়ী কর্মী ভিসার আবেদনকারীরা পড়বেন।
কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আবেদনকারীরা সঠিক তথ্য দিচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের আরও কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে। বিশেষ করে কেউ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার উদ্দেশ্যে ভিসা নিচ্ছেন কি না, সেটি আগেই শনাক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে ভিসা সাক্ষাৎকারে আবেদনকারীদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন দুটি হলো— ‘আপনি কি আপনার নিজ দেশ বা সর্বশেষ বসবাসের স্থানে কোনো ধরনের নির্যাতন বা ক্ষতির শিকার হয়েছেন?’ এবং ‘নিজ দেশে ফিরে গেলে আপনি কি নির্যাতন বা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন?’
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হলে আবেদনকারীকে উভয় প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলতে হবে। অন্যথায় তার আবেদন নিয়ে অতিরিক্ত সন্দেহ তৈরি হতে পারে।
অভিবাসন নীতি বিশ্লেষক ক্যামিল ম্যাকলার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, নতুন নির্দেশনা অনেক মানুষকে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে ফেলতে পারে। তাদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হবে, যা নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হয়েছে।
বর্তমান মার্কিন আইনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে হলে একজন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থাকতে হয়। সাধারণত রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্ম, জাতিগত পরিচয় বা অন্য কোনো কারণে নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার বা নির্যাতনের আশঙ্কায় থাকা ব্যক্তিরা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নির্দেশনা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনকারীর সংখ্যা কমতে পারে। তবে একই সঙ্গে মানবাধিকার ও শরণার্থী সুরক্ষা ইস্যুতে নতুন বিতর্কও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



