ডাকবাংলোর দুই কক্ষে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ, রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য বরগুনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২৬

বরগুনার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি পৃথক কক্ষ থেকে এক নারী ও তার দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

নিহতরা হলেন বরগুনা পৌর শহরের কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী ইতি রাণী (৩৪) এবং তাদের দুই মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২)অনুরাধা বিশ্বাস (৩)। ইতি রাণী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে ইতি রাণী ডাকবাংলোতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে যোগ দেন। তিনি সাধারণত প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত হতেন। তবে বুধবার সকাল ১১টার দিকে দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ডাকবাংলোতে আসেন।

দুপুরের পর তৃতীয় তলার একটি কক্ষের দরজা দীর্ঘ সময় ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়।

পুলিশ জানায়, একটি কক্ষ থেকে বড় মেয়ে আরাধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অন্য একটি কক্ষ, যা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, সেখান থেকে ইতি রাণী ও ছোট মেয়ে অনুরাধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইতি রাণীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সকালে তিনি কাজে বের হওয়ার আগে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। ইতি রাণী সেদিন নিরামিষ রান্না করবেন বলে জানালে তিনি বাজার করে দেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়িতে ফিরে ঘরে তালা দেখতে পান। ইতি রাণী পাশের বাড়িতে তার বোনের কাছে যেতে পারেন বলে ধারণা করেছিলেন। তিনি জানতেন না যে স্ত্রী দুই মেয়েকে নিয়ে ডাকবাংলোতে গেছেন।

বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “ডাকবাংলোর সর্বত্র সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। আমরা এবং পুলিশ ইতোমধ্যে ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, মেয়ে দুটিকে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, “বড় মেয়ের মরদেহ যে কক্ষে পাওয়া গেছে সেটি খোলা ছিল। অপর কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং সেখান থেকেই মা ও ছোট মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বড় মেয়ের কক্ষ থেকে পাঁচটি ঘুমের ওষুধ ও পানির বোতল পাওয়া গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”

ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মা ও দুই শিশুকন্যার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্তে গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।