আশ্রয় সুবিধা কমিয়ে ইইউ আইন লঙ্ঘন করেছে জার্মানি
ইউরোপীয় আদালতের রায়
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৮:২২ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৬
জার্মানির প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সুবিধা কমানোর সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন লঙ্ঘন করেছে বলে রায় দিয়েছে ইউরোপীয় বিচার আদালত (ইসিজে)। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও একজন ব্যক্তিকে শুধু বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুবিধা নয়, বরং “সম্মানজনক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক সহায়তা” নিশ্চিত করতে হবে।
আদালতের এই রায়ে বলা হয়েছে, পোশাক, স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থানসহ দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা পূরণের সুযোগ থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না। একই সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে ন্যূনতম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তাও দিতে হবে।
আফগান আশ্রয়প্রার্থীর মামলায় রায়
মামলাটি শুরু হয় এক আফগান আশ্রয়প্রার্থীর (এফবি নামে চিহ্নিত) আবেদনের ভিত্তিতে। ২০২১ সালে জার্মানি তার আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং তাকে রোমানিয়ায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। স্থানান্তরের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় তার জন্য খাবার, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ কিছু সুবিধা দেওয়া হলেও পোশাক ও গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী বন্ধ করে দেয় জার্মান কর্তৃপক্ষ।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা গড়ায় শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় আদালতে। ২০২২ সালে জার্মানির বাভারিয়ার একটি জেলা আদালতের রায়ের পর বিষয়টি ইসিজেতে পৌঁছায়।
আদালতের অবস্থান
ইসিজে জানায়, পোশাক “মৌলিক চাহিদার অংশ” এবং শুধুমাত্র বেঁচে থাকার ন্যূনতম সহায়তা যথেষ্ট নয়। বরং দৈনন্দিন জীবন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও বস্তুগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা থাকে।
জার্মানির নীতি ও বিতর্ক
জার্মানি ২০২৪ সালে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নগদ সহায়তা আরও সীমিত করে এবং শুধুমাত্র খাদ্য, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা বজায় রেখে অন্যান্য সুবিধা কমিয়ে দেয়। সমালোচকরা এই নীতিকে “বিছানা, রুটি ও সাবান” মডেল হিসেবে আখ্যা দেন।
ডানপন্থি ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, উদার কল্যাণ নীতি অভিবাসনকে আকৃষ্ট করে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ ধরনের সীমাবদ্ধতা মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এবং ইইউ আইনের পরিপন্থী।
নতুন অভিবাসন চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা
১২ জুন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে বর্তমান রায়ের প্রভাব সীমিত হয়ে যেতে পারে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, মৌলিক অধিকার রক্ষায় এই রায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রো অ্যাসিলসহ একাধিক সংস্থা রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদেরও স্থানান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার থাকা উচিত।



