ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ৫৮৯
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২৬
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৯৮০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে সর্বশেষ হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে উদ্ধারকারী দল জীবিতদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্পে অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেক সড়কে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। হাজারো পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) হিসাবে, এ দুর্যোগে ৬৭ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এর মধ্যে শুধু কারাকাসেই রয়েছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে আটকে থাকা এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাজধানীর বাইরে অনেক এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম ও জনবল পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে পেতে অনেক পরিবার রাস্তায় পোস্টার লাগাচ্ছে। আবার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিদেশে থাকা ভেনেজুয়েলানরাও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল ও আবাসন পুনর্গঠনে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
এদিকে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (OCHA) জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১ হাজার উদ্ধারকর্মী নিয়ে ২৫টি আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে স্পেন, জার্মানি, চিলি, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, ব্রাজিল, পর্তুগাল ও কানাডা উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী এবং অগভীর ভূমিকম্প আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। ফলে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।



