অভিবাসন আটক নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের সমর্থন চাইল ট্রাম্প প্রশাসন
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ২:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২৬
অভিবাসন অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বন্ড শুনানির সুযোগ ছাড়াই আটক রাখার নীতির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সমর্থন চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার দাখিল করা এক আবেদনে প্রশাসন ফেডারেল আপিল আদালতের মে মাসের একটি রায় বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছে, যেখানে সরকারের আইনের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
আবেদনে প্রশাসনের দাবি, যেসব ব্যক্তি বৈধ অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন এবং পরে দেশে দীর্ঘদিন অবস্থান করেছেন, তাদেরও অভিবাসন আইনের আওতায় বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে তাদের অভিবাসন মামলা চলাকালে বন্ড শুনানির সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাওয়ার আদালতে বলেন, বাধ্যতামূলক আটক ব্যবস্থা শুনানি এড়িয়ে যাওয়া রোধ এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া কার্যকর করতে সহায়ক। তিনি বিষয়টিকে অভিবাসন আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গত বছর থেকে এ নীতির নতুন ব্যাখ্যা অনুসরণ করছে। পরবর্তীতে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসও একই অবস্থান নেয়। এর ফলে বিভিন্ন অভিবাসন আদালতে বিচারকরা বাধ্যতামূলক আটকাদেশ দেওয়া শুরু করেন।
তবে সিনসিনাটি-ভিত্তিক ষষ্ঠ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস সম্প্রতি এক রায়ে জানায়, প্রশাসন ১৯৯৬ সালের অভিবাসন আইন সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করেনি। মেক্সিকো, এল সালভাদর, ভেনেজুয়েলা, নিকারাগুয়া ও গুয়াতেমালার কয়েকজন অভিবাসীর মামলায় আদালত মন্তব্য করে, দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিদের বন্ড শুনানির সুযোগ না দেওয়া আইনগত প্রশ্নের জন্ম দেয়।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির পক্ষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিলেও বাধ্যতামূলক আটক নীতিকে ঘিরে বিভিন্ন নিম্ন আদালতে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য এখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আটক নীতি এবং ভবিষ্যতের বহিষ্কার প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



