১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের নতুন প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ঘোষণা স্টারমারের

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৮:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২৬

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে অতিরিক্ত ১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের নতুন প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা (ডিআইপি) ঘোষণা করেছেন। এই অর্থের বড় অংশ জ্বালানি, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাজেট পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে জোগান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঘোষিত এ পরিকল্পনা প্রায় ১১ মাসের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের পর প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে সরকারের ভেতরে রাজনৈতিক চাপও তৈরি হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরে প্রতিরক্ষা খাতে পূর্বনির্ধারিত ২৮৩ বিলিয়ন পাউন্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে।

নতুন পরিকল্পনায় রয়্যাল এয়ার ফোর্সের জন্য নতুন স্টেলথ যুদ্ধবিমান কেনায় ৮ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ৬৩ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ১২টি নতুন বিমান সংগ্রহও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ড্রোন প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয় করা হবে।

স্টারমার বলেন, অতিরিক্ত অর্থের বড় অংশ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মূলধনী বাজেট থেকে স্থানান্তর করা হবে। এর ফলে কিছু সড়ক, জ্বালানি ও অবকাঠামো প্রকল্প বিলম্বিত, সীমিত বা বাতিল হতে পারে। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অর্থ জোগাতে নতুন করে ঋণ নেওয়ার প্রস্তাবও নাকচ করেছেন স্টারমার। তিনি বলেন, ‘ডিফেন্স বন্ড’ চালু করা মানে মূলত আরও ঋণ নেওয়া, যা সুদের চাপ বাড়াবে। বর্তমানে সরকারি ব্যয়ের প্রতি ১০ পাউন্ডের মধ্যে ১ পাউন্ডই সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে।

তবে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, ঘোষিত অতিরিক্ত অর্থও যথেষ্ট নয়। তারা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন। সরকারও ভবিষ্যতে সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

স্টারমার বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেকোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দায়িত্ব। তাই ভবিষ্যৎ সরকারও এই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান