জানতে হবে যেসব নিয়ম

জার্মানিতে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২৬

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দৈনন্দিন খরচের একটি অংশ বহন করার পাশাপাশি বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারেন। তবে কাজের ক্ষেত্রে দেশটির শ্রম আইন, ভিসার শর্ত এবং কর-সংক্রান্ত বিধান মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য পার্ট-টাইম চাকরির সুযোগ দিয়ে থাকে। জনপ্রিয় কাজের মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ বা ক্যাফেতে ওয়েটার হিসেবে কাজ, ট্রেড ফেয়ারে সহায়তা, বেবিসিটিং, বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউটরিং এবং একাডেমিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত পার্ট-টাইম কাজ করলে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন শিক্ষকতা বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা টিউটর হিসেবে কাজ করতে পারেন, আবার শিল্প ইতিহাসের শিক্ষার্থীরা জাদুঘরে কাজের সুযোগ পান। জার্মান ভাষায় দক্ষতা থাকলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজকে জার্মানিতে ‘হাইভি’ (HiWi) বলা হয়। সাধারণত অন্তত ছয় সেমিস্টার শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা এ ধরনের কাজের জন্য যোগ্য হন। গবেষণা প্রকল্পে সহায়তা, তথ্য সংগ্রহ, লাইব্রেরি পরিচালনা এবং সেমিনারে টিউটর হিসেবে কাজ করার সুযোগ থাকে। এতে একদিকে যেমন আয় হয়, অন্যদিকে গবেষণা ও পেশাগত দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। অনুমোদিত সময়ের বেশি কাজ করলে ভিসা বাতিল বা অন্যান্য আইনি জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই পার্ট-টাইম চাকরি শুরুর আগে ভিসার শর্ত ও কাজের অনুমতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আয়ের পরিমাণ শহরভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। মিউনিখ, হামবুর্গ ও কোলনের মতো বড় শহরে পার্ট-টাইম চাকরির আয় তুলনামূলক বেশি হলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেশি। বর্তমানে মাসে ৬০৩ ইউরো পর্যন্ত আয় করমুক্ত। এর বেশি আয় করলে কর নম্বর নিতে হয় এবং বেতনের একটি অংশ কর হিসেবে কেটে রাখা হয়। তবে বছরের শেষে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিলে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সেই অর্থের একটি অংশ ফেরত পাওয়া যায়।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিমা, পেনশন ও বেকারত্ব বিমার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা অবদান দেওয়ার বিধানও রয়েছে। তবে তিন মাসের কম সময় অথবা বছরে ৭০ দিনের কম কাজ করলে সাধারণত এসব অবদান দিতে হয় না।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, শুধু পার্ট-টাইম চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে জার্মানিতে পড়াশোনার সব ব্যয় বহন করা কঠিন। তাই পার্ট-টাইম কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন বৃত্তি (স্টিপেন্ডিয়াম) ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে আবেদন করলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি উপকৃত হতে পারেন।