বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালিতে দুই বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১০:২০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২৬

আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধবিরতির কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাতে প্রণালিটি অতিক্রম করার সময় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস, যা পরে রয়টার্সও প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় দুটি জাহাজ উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটে এ হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ব্রিটেনের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, ওমানের লিমা উপকূলের প্রায় আট নটিক্যাল মাইল পূর্বে দক্ষিণমুখী একটি তেলবাহী জাহাজের বাঁ পাশে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে জাহাজে আগুন লাগলেও কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

এ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার না করলেও মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে দায়ী করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান নির্ধারিত সামুদ্রিক করিডর ব্যবহার না করলে জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল।

ঘটনার আগে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমাতে একটি যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা কার্যকর ছিল। তবে সর্বশেষ হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আমেরিকা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের নৌপথ নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য ট্রানজিট ফি আদায় নিয়ে বিরোধও আরও তীব্র হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বিশ্বের দৈনিক অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে যেকোনো নিরাপত্তা সংকট আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার থেকে তেল বহনকারী কয়েকটি জাহাজ এখনো এ পথ ব্যবহার করছে, যা জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।