প্রেসিডেন্ট নির্বাচন লড়তে পারবেন কি লে পেন? রায় আজ
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ১০:২২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২৬
ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মারিন লে পেন আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আজ (মঙ্গলবার) গুরুত্বপূর্ণ রায় দেবেন দেশটির প্যারিস আপিল আদালত। এই রায়ের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) দলের আগামী নির্বাচনী কৌশল।
২০২৫ সালের মার্চে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ আত্মসাতের মামলায় লে পেনকে দোষী সাব্যস্ত করে একটি আদালত। অভিযোগ ছিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের সহকারীদের বেতনের জন্য বরাদ্দ অর্থ দলীয় কর্মীদের বেতন পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে।
সেই রায়ে লে পেনকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি তাকে এক লাখ ইউরো জরিমানা এবং চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুই বছরের সাজা স্থগিত রাখা হয় এবং বাকি দুই বছর ইলেকট্রনিক নজরদারির আওতায় কাটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন লে পেন এবং তিনি ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
আপিল আদালত যদি আগের রায় বহাল রাখেন, তাহলে ৫৭ বছর বয়সী লে পেন ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে ন্যাশনাল র্যালির সভাপতি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ৩০ বছর বয়সী জর্ডান বারদেলা দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারেন।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ন্যাশনাল র্যালি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বারদেলা প্রার্থী হলেও তিনি নির্বাচনের প্রথম ধাপে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং চূড়ান্ত পর্বেও জায়গা করে নিতে পারেন।
গত এক দশকের বেশি সময় ধরে মারিন লে পেন তার বাবা জ্যাঁ-মারি লে পেনের প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল র্যালিকে ফ্রান্সের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছেন। ফলে আজকের রায় শুধু তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, দলটির ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রায় ঘোষণা শুরু হওয়ার কথা। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আদালত রায় দেবেন। একই দিন রাতে ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল টিএফ১-এ একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে লে পেনের। সেখানে তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন।
আপিল আদালত চাইলে আগের রায় বহাল রেখে শাস্তি কমিয়ে দিতে পারেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা দুই বছর বা তার কম করা হলে লে পেন আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। আবার আদালত চাইলে আগের রায় পুরোপুরি বাতিলও করতে পারেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।
আপিল আদালত আগের রায় বহাল রাখলে লে পেন ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত কুর দ্য কাসাসিওঁতে আপিল করতে পারবেন। তবে তিনি আগেই জানিয়েছেন, চূড়ান্ত রায় পেতে দীর্ঘ সময় লাগলে তিনি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না।
উল্লেখ্য, এই মামলায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রায় ৪০ লাখ ইউরোর বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।



