দুই মাসে ১০ হাজার টাকা বিল? সিফাতের দাবির সঙ্গে মিলল না হিসাব
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন গাজীপুরের কলেজছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহ। তবে তার অভিযোগ তদন্ত করে ভিন্ন তথ্য পেয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১।
পল্লী বিদ্যুতের তদন্ত অনুযায়ী, সিফাতের পরিবারের বাড়িতে একটি নয়, তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। আর গত দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিল এসেছে—সিফাতের এমন দাবির সঙ্গে তিনটি মিটারের হিসাব মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুতের তথ্য বলছে, মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসে তিনটি মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। এর বিপরীতে মোট বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।
এর মধ্যে একটি মিটারে চার মাসে ৩২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল এসেছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।
দ্বিতীয় মিটারে একই সময়ে ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট ব্যবহার হয়েছে। এতে বিল এসেছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।
আর তৃতীয় মিটারে ৬২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ডবাজার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আহসান কবীর জানান, সিফাতের ভিডিও দেখে মনে হতে পারে একটি মিটারে দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিল এসেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ওই সময়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে পরিবারের তিনটি মিটারের জন্য।
তিনি আরও জানান, কর্মকর্তারা সিফাতের বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুৎচালিত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির তালিকা সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এতে সাড়া দেওয়া হয়নি এবং বাড়ির গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তার ভাষ্য, বাসায় বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেশি হলে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ বিলও বেশি হতে পারে। তবে বিল নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে।
এদিকে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও ওঠে সিফাতের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সিফাতের গ্রেপ্তারের ঘটনায় এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী ক্ষোভ প্রকাশ করে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে করা অভিযোগের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তদন্তে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত বিলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।



