চারজনের যাবজ্জীবন
নুসরাত হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৬
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
এ ছাড়া উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, মাদরাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ এবং সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়েরের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাঁরা হলেন—সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মণি, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহিউদ্দিন শাকিল।
এ সময় সঠিকভাবে রায় দিতে না পারায় মামলাটির নিম্ন আদালতের বিচারককে বিচারিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ আলোচিত এ মামলার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হাইকোর্টে এলে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল এবং জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে আজকের রায় ঘোষণা করা হয়।



