রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটক দুজন হলেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। তারা ওই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার রাতে চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে দুজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

সূত্রের দাবি, স্থানীয় যুবকদের একটি দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে ঢুকে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।

স্থানীয়রা জানান, বাড়ির ভেতর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে দুইতলা বাড়ির ছাদ, সিঁড়ি ও শোবার ঘর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছাদে, তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়িতে এবং ছেলে প্রিয়মের মরদেহ খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। একই সাথে টাকা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলোও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এতে প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এসেছে।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। ছেলে প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। পাশাপাশি মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও র‍্যাব তদন্তে কাজ করছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে চারজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

তিনি আরও বলেন, বাড়িঘর তছনছ করার আলামত পাওয়া গেছে। টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়ে থাকতে পারে। বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে এবং দ্রুত ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশা করছে পুলিশ।

এদিকে সন্দেহভাজন দুজনকে আটকের বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। এ ঘটনায় আজ দুপুরে মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।