প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি, তবু নতুন ঝুঁকিতে ইউরোজোনের অর্থনীতি
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২৬
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে ইউরোজোন। তবে উচ্চ জ্বালানি ব্যয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরো মুদ্রা ব্যবহারকারী ২১টি দেশের অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় ০ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এর আগে রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা ০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইউরোজোনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১ শতাংশ, যা বাজারের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। একই সঙ্গে আগের কয়েকটি প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির হিসাবও ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোজোনের বড় অর্থনীতিগুলোর তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স এই প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির অর্থনীতি ০ দশমিক ২ শতাংশ করে বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউরোজোনের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি স্পেন ০ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। নেদারল্যান্ডসের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ, যা পূর্বাভাসের প্রায় দ্বিগুণ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পারিবারিক ভোগব্যয়ের স্থিতিশীলতা এবং জার্মানির প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ইউরোজোনের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
শ্রমবাজারেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। জুন মাসে ইউরোজোনে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৩ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল। একই সঙ্গে শিল্প ও সেবা খাতের আস্থার সূচকও প্রত্যাশার তুলনায় উন্নতি করেছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পেছনে কিছু সাময়িক কারণও রয়েছে। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা মূলত দেশটিতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অবদানের ফল। তুলনামূলক ছোট অর্থনীতি হলেও আয়ারল্যান্ডের প্রবৃদ্ধি ইউরোজোনের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।
কমার্জব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়র্গ ক্রেমার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি কমে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, অপরিশোধিত জ্বালানিপণ্যের সরবরাহ সংকট এবং মূল্যস্ফীতির চাপ ইউরোপের ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ সুদের হারও ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যদিও দ্বিতীয় প্রান্তিকের অর্থনৈতিক ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো এসেছে, তবুও চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে আগামী মাসগুলোতে ইউরোজোনের অর্থনীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।



