লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ফি আদায়ের পরিকল্পনায় হুতিরা

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৯:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২৬

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে লোহিত সাগরের দক্ষিণে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী অধিকাংশ জাহাজকে এ অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকেই এই কৌশলগত সমুদ্রপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হুতিরা।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত ফি আদায় করা হবে। তবে এটি কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি জুলাইয়ে ইরান সফরের সময় হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন ইরানি কর্মকর্তারা। তাদের উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক এই নৌপথে ফি আদায়ের ব্যবস্থা চালু করা এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বৃদ্ধি করা।

সূত্রগুলোর দাবি, চীনের জাহাজগুলোকে এই ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। এর আগে লোহিত সাগরে চীনা জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বেইজিং ও হুতিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবা বলেছেন, হুতিরা লোহিত সাগরের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা সফল হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করবে।

পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রবাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।

২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হুতিদের হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। গত সপ্তাহেও সৌদি আরবের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দায় স্বীকার করেছে গোষ্ঠীটি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জর্দানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘অননুমোদিত পথ’ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করা তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবিও করেছে তারা।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার জন্য ওমানের দেওয়া প্রস্তাব ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ওমানের সঙ্গে সমানভাবে ভাগাভাগি করা ইরানের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইরান প্রবেশমুখে পূর্ণ এবং বহির্গমনপথে আংশিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়।