জাপানে ভূমিকম্পে মৃত ৩৪, তীব্র গরমে ব্যাহত উদ্ধার অভিযান

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২৬

দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের কুমামোটো প্রিফেকচারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকলেও তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ–পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপের কুমামোটো এলাকায় ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহু ভবন, সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি শপিং সেন্টারের অংশ ধসে পড়ে এবং পরে সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন।

ভূমিকম্পে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তবে প্রচণ্ড গরমে তাদের নিরাপদ রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে কুমামোটো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এ কারণে বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি ৩০০টি এয়ারকন্ডিশনার পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থাপন করা হবে। বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

বুধবার পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন ছিল। একটি আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তা ইউকিয়া সানোউয়ে জানান, সেখানে প্রায় এক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের প্রায় ৩০ শতাংশই বয়স্ক। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের পর পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বুধবার জেনারেটর পাওয়ার পর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়েছে। এরই মধ্যে গরমজনিত অসুস্থতায় কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। নতুন করে কম্পনের আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা নিজেদের গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন।

উদ্ধার অভিযানে হাজার হাজার কর্মী অংশ নিয়েছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর একটি কাশিমা শহরের এওন শপিং সেন্টার। ভবনটির দ্বিতীয় তলার একটি অংশ ধসে পড়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ চালাচ্ছেন।

ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর শপিং মলটিতে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এওন কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, এটি গ্যাস বিস্ফোরণ হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, ক্ষতিগ্রস্ত এওন শপিং মলটি গত মাসেই সংস্কারের পর পুনরায় চালু করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিলে কুমামোটো অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৭৮ জন নিহত হয়েছিলেন।

এদিকে, ইয়াতসুশিরো শহরের নিপ্পন পেপার কারখানাতেও উদ্ধার অভিযান চলছে। ভূমিকম্পে কারখানার একটি অংশ ধসে পড়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা সেখানে এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করছেন।