সৌদিতে আগুনে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু: সেদিন কী ঘটেছিল?
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৬
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে একই কারখানায় কাজ করতেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের আব্দুল গফফারের ছেলে হাবিবুর রহমান (২৬)। অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
সোমবার বিকেলে হাবিবুরের সঙ্গে কথা বলে অগ্নিকাণ্ডের দিনের ঘটনা জানা যায়।
হাবিবুর বলেন, ‘কারখানাটি আবাসিক এলাকা থেকে একটু দূরে। দিনের বেলা বেশিরভাগ শ্রমিক ঘুমিয়ে থাকেন, রাতে কাজ করেন। দুপুরে আমি কাছের একটি সেলুনে গিয়েছিলাম চুল-দাড়ি কাটাতে। আমি বের হয়ে যাওয়ার পর দুপুর দেড়টার দিকে আগুন লাগে। খবর পেয়ে যখন কারখানায় ফিরলাম, তখন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভাচ্ছিলেন। আমাকে আর ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘১৬ জনের মধ্যে সাতজন কারখানায় ধোঁয়ার কারণে শ্বাস নিতে না পেরে মারা গেছেন। বাকিরা পুড়ে মারা গেছেন। মরদেহগুলো পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে গেছে।’
হাবিবুর জানান, দিনের বেলায় কারখানার দরজা বন্ধ থাকত এবং সেখানে কোনো জানালা ছিল না। এ কারণেই আগুন লাগার পর ভেতরে থাকা সবাই বের হতে পারেননি।
কারখানাটির মালিক সম্পর্কে জানতে চাইলে হাবিবুর বলেন, ‘আমরা ১৭ জনই চুক্তি নিয়ে কারখানাটি চালাতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই একতলা ওই কারখানার ভেতরেই থাকতাম। আমাদের কাগজপত্র, পাসপোর্ট সবকিছুই সেখানে ছিল। সব পুড়ে গেছে। সৌদি পুলিশ এখন নিহতদের মরদেহ ফেরত দেওয়ার জন্য কাগজপত্র চাইছে। তারা বলছে, পাসপোর্টের ফটোকপি দিলে তারা সেই ঠিকানায় মরদেহ পাঠাবে।’
কারখানায় থাকার সুযোগ না থাকায় বর্তমানে এক বন্ধুর বাসায় উঠেছেন হাবিবুর। তিনি বলেন, ‘চুল-দাড়ি কাটতে যাওয়ায় আমি বেঁচে গেলাম।’
নিহতদের অনেক পরিবারের সদস্যের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে জানিয়ে হাবিবুর বলেন, আরও কিছুদিন সৌদিতে কাজ করার পর দেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
হাবিবুরের বন্ধু ও একই গ্রামের বাসিন্দা হেলাল প্রামাণিক জানান, পাঁচ বছর আগে তিনিও রিয়াদের ওই সোফা কারখানায় কাজ করতেন। করোনার সময় দেশে ফিরে আসেন।
হেলাল বলেন, ‘মূলত রিয়াদের ওই সোফা কারখানাটির বৈধ কাগজপত্র ছিল না। এ কারণে ওই ঘরে কোনো জানালা ছিল না। দিনে সবাই ঘুমাতেন এবং রাতে কাজ করতেন।’
তিনি জানান, কারখানাটিতে মূলত সোফার ডিজাইন ও ফ্রেম তৈরির কাজ করা হতো।
রোববার দুপুরে রিয়াদের আল-শিফা থানার আওতাধীন মুসা শিল্প এলাকায় ওই সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার। তাঁদের মধ্যে গন্ডগোহালী গ্রামের দুই ভাইসহ চারজন রয়েছেন।



