আমেরিকায় অভিবাসীদের ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তারের ক্ষমতা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২৬
আমেরিকায় অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থাকে প্রশাসনিক পরোয়ানা ছাড়াই অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ১২ আগস্ট প্রকাশিত এক অভ্যন্তরীণ নথিতে আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্স নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে কর্মকর্তাদের এই অতিরিক্ত এখতিয়ার দিয়েছেন।
আগের নিয়মে কোনো ব্যক্তির আদালতে হাজির না হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনা করা হতো। তবে নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তার প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে যে সময় লাগবে, তার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্থান ত্যাগ করতে পারেন কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। কর্মকর্তারা যদি মনে করেন, ওই ব্যক্তি পালিয়ে যেতে পারেন, তাহলে প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে।
নতুন ব্যাখ্যার ফলে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালানোর সময় মূল লক্ষ্যবস্তুর বাইরে অন্য কোনো অবৈধ অভিবাসীর মুখোমুখি হলেও আইসিই কর্মকর্তারা দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন। এ ধরনের গ্রেপ্তারকে বলা হচ্ছে ‘কোল্যাটারাল অ্যারেস্ট’।
তবে এই ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কলোরাডোর একটি ফেডারেল আদালত ইতোমধ্যে আইসিইকে সতর্ক করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শুধু অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের জন্য যথেষ্ট নয়। প্রতিটি ঘটনায় গ্রেপ্তারের পেছনে নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক আইনি ভিত্তি থাকতে হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোও নতুন এই নীতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের মতে, এর ফলে আমেরিকায় বসবাসরত অভিবাসীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে এবং তাদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আমেরিকার অভিবাসন নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। একদিকে সরকার অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করছেন।
আইসিই কর্মকর্তারা অবশ্য নতুন নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ে অভিযান আরও কার্যকর করতেই এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পালিয়ে যেতে পারেন। নতুন নিয়মে সেই ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।



