কানাডায় অবৈধ বসবাস, শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৬
কানাডায় অবৈধভাবে বসবাস ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর তৎপরতা জোরদার করেছে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের তালিকায় শীর্ষ দশে রয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে প্রায় এক হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
কানাডা সরকার অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আশ্রয়প্রার্থী বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর সংখ্যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী কানাডায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শুধু কানাডা নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে কঠোর হচ্ছে।
সিবিএসএর ‘রিমুভালস ইন প্রোগ্রেস’ তালিকা অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত ৯৬৮ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দশম। ২০২০ সালে ৩০৮ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ২২৭ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে কানাডায় আশ্রয়ের আবেদনকারীদের মধ্যেও বাংলাদেশিরা রয়েছেন। ভিজিটর ভিসায় আসা ১৭৫ জনের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি পরে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।
কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াধীন বিদেশিদের মধ্যে মোট ৪০ হাজার ৮২৭ জনের মধ্যে ৩৬ হাজার ৬২২ জনই রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী। কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত এক বাংলাদেশি জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আশ্রয়ের আবেদনগুলোতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগে যারা নিপীড়নের আশঙ্কায় আবেদন করেছিলেন, তাদের ঝুঁকি মূল্যায়ন নতুন প্রেক্ষাপটে পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। আবার যারা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে দেশে ফিরলে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, তাদের নতুন আবেদনও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশিদের অবস্থান ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ইউরোপের দেশগুলো আশ্রয় দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। সাগরপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাত্রা ও মানব পাচারের মতো বিষয় বাংলাদেশিদের ভিসা পাওয়া কঠিন করে তুলছে।
কানাডায় ফেরত পাঠানোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারত। দেশটির ৭ হাজার ৬৬৯ জন নাগরিক ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। এরপর রয়েছে মেক্সিকো, আমেরিকা, চীন, নাইজেরিয়া, কলম্বিয়া, পাকিস্তান, ব্রাজিল ও চিলি। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের ১০ হাজার ৬০৭ জনকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয়ের আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ বৃহত্তম উৎস দেশ। ওই বছর বাংলাদেশিদের ৩৬ হাজার ৯০১টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ আবেদন অনুমোদিত হয়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, “আশ্রয়ের আবেদনের সংখ্যা বৃদ্ধি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য নেতিবাচক। দেশে এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই, তবুও অনেকে স্থায়ীভাবে থাকার উদ্দেশ্যে বিদেশে আশ্রয়ের আবেদন করছেন।”



