মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন নতুন ৪ জন, আলোচনায় যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২৬

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে আগামী ১৭ আগস্ট। ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার মধ্যেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা আপাতত কম বলে জানিয়েছেন সরকারের একাধিক সূত্র।

সরকারের কাজের গতি বাড়ানো এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের চাপ কমাতে সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের চিন্তাভাবনা চলছে। এর অংশ হিসেবে নতুন চারজনকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার আলোচনা রয়েছে।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান এমপি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি, কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকন এমপিকে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারেই রয়েছে।

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হবে আগামী ১৬ আগস্ট। এরই মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

সরকারের শুরুতে তুলনামূলক বড় পরিসরে মন্ত্রণালয় বণ্টন করা হলেও কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সড়ক-রেল-নৌপরিবহনসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক দায়িত্ব রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কাজের চাপ কমাতে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, আপাতত কাউকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়নের পর যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রথম ধাপে বড় ধরনের ‘রদবদল’ নয়, বরং সীমিত পরিসরে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’ হতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রভাবশালী সদস্য বলেন, ‘আপাতত মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কারণ ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হবে আগামী ১৬ আগস্ট। এরই মধ্যে সব মন্ত্রণালয় রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এসব রিপোর্ট মূল্যায়ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের কাজের চাপ কমাতে সেসব মন্ত্রণালয়ে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আছে।’

মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের বিষয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘১৮০ দিনের কর্মসূচির মূল্যায়ন করা হবে। আমরা কতটা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছি, প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব মাধ্যম আছে, গণমাধ্যম আছে—এসবের মাধ্যমে হয়তো খোঁজখবর নিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে মন্ত্রিসভায় যদি কোনো পরিবর্তন করতে চান প্রধানমন্ত্রী, ওনার মতো করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। ওনার সিদ্ধান্তকে আমরা অ্যাপ্রিশিয়েট করি।’