মাসে মিলবে লাখ টাকা!
লন্ডনে মাস্টার্স করতে খরচ নেই, পাবেন বিমানভাড়াও
সানজিদা হক প্রমা
প্রকাশিত: ১২:২৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬
লন্ডনে মাস্টার্স করার জন্য কমনওয়েলথ মাস্টার্স বৃত্তি ২০২৭–২৮-এর আবেদন শুরু হতে যাচ্ছে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের কমনওয়েলথভুক্ত দেশের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি।
এই বৃত্তির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা লন্ডনে পূর্ণকালীন মাস্টার্স পড়ার সুযোগ পাবেন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার খরচ নয়, বিমানভাড়া, মাসিক জীবনযাপন ভাতা, গবেষণাপত্র তৈরির খরচসহ আরও বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হবে।
বৃত্তিটি লন্ডনের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করে। এর মূল লক্ষ্য হলো এমন মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া, যারা নিজ দেশের উন্নয়নে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন, কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিজের খরচে লন্ডনে পড়াশোনা করা সম্ভব নয়।
কমনওয়েলথ মাস্টার্স বৃত্তি ২০২৭–২৮ এক নজরে
বৃত্তির নাম: কমনওয়েলথ মাস্টার্স বৃত্তি
পড়াশোনার স্থান: লন্ডনসহ সংশ্লিষ্ট দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়
অর্থায়ন: পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর
শিক্ষার স্তর: মাস্টার্স
বৃত্তির ধরন: সম্পূর্ণ অর্থায়িত
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ: রয়েছে
কী কী সুবিধা পাবেন?
এই বৃত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ খরচ বহন করা হবে।
সুবিধার মধ্যে রয়েছে—
লন্ডনে যাওয়া ও দেশে ফেরার বিমানভাড়া
সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন
প্রতি মাসে ১ হাজার ৭১২ পাউন্ড পর্যন্ত জীবনযাপন ভাতা
কিছু ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ২ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ভাতা
শীতকালীন পোশাক কেনার জন্য বিশেষ ভাতা
গবেষণাপত্র বা অভিসন্দর্ভ তৈরির খরচ
পড়াশোনাসংক্রান্ত ভ্রমণের জন্য বিশেষ ভ্রমণ অনুদান
নির্দিষ্ট শর্তে সন্তানসহ শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ভাতা
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা
সন্তানসহ শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ভাতা
একক অভিভাবক, বিধবা বা বিবাহবিচ্ছিন্ন শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রথম সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৬২২ পাউন্ড এবং ১৬ বছরের কম বয়সী প্রতিটি অতিরিক্ত সন্তানের জন্য ১৫৪ পাউন্ড ভাতা পেতে পারেন।
তবে সন্তানকে শিক্ষার্থীর সঙ্গে লন্ডনে বসবাস করতে হবে এবং বৃত্তির নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
কোন দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন?
বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
যোগ্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বাংলাদেশ, বেলিজ, বতসোয়ানা, ডমিনিকা, এসওয়াতিনি, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গায়ানা, ভারত, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, লেসোথো, মালাউই, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরিশাস, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, নাউরু, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, পাপুয়া নিউগিনি, রুয়ান্ডা, সেন্ট হেলেনা, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সামোয়া, সিয়েরা লিওন, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু ও জাম্বিয়া।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
এই বৃত্তির জন্য আবেদনকারীদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
আবেদনকারীকে—
যোগ্য কোনো কমনওয়েলথ দেশের নাগরিক হতে হবে অথবা ওই দেশের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে;
যোগ্য দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে;
২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে লন্ডনে পড়াশোনা শুরু করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে;
২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির উচ্চতর মানের স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে;
দ্বিতীয় শ্রেণির নিম্নমানের স্নাতক ডিগ্রি থাকলেও প্রাসঙ্গিক স্নাতকোত্তর যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যেতে পারে;
বৃত্তি ছাড়া নিজের খরচে লন্ডনে পড়াশোনা করার সামর্থ্য না থাকতে হবে;
নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
এই বৃত্তির জন্য বয়সের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।
সাধারণত দ্বিতীয়বার মাস্টার্স করার জন্য এই বৃত্তি দেওয়া হয় না। তবে দ্বিতীয় মাস্টার্স কেন প্রয়োজন, তার যথাযথ ব্যাখ্যা থাকলে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
যারা আগে কোনো লন্ডনের প্রতিষ্ঠানে মাস্টার্স পর্যায়ে পড়াশোনা করেছেন অথবা মাস্টার্স পর্যায়ে কমনওয়েলথ বৃত্তি পেয়েছেন, তারা সাধারণত এই বৃত্তির জন্য যোগ্য নন।
কীভাবে আবেদন করবেন?
এই বৃত্তিতে সরাসরি বৃত্তি কমিশনের কাছে আবেদন করা যায় না। আবেদন করতে হবে নির্ধারিত মনোনয়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।
মনোনয়নকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকতে পারে—
জাতীয় মনোনয়নকারী সংস্থা
নির্ধারিত বেসরকারি সংস্থা
দাতব্য প্রতিষ্ঠান
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের নিয়ম ও শেষ সময় আলাদা হতে পারে। তাই আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়মও ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।
এর পাশাপাশি বৃত্তি কমিশনের নির্ধারিত অনলাইন আবেদন ব্যবস্থায়ও আবেদন করতে হবে।
অর্থাৎ, মনোনয়নকারী প্রতিষ্ঠানের আবেদন এবং বৃত্তি কমিশনের আবেদন—দুটিই সম্পন্ন করতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে সুপারিশকারীদের কাছ থেকে পাওয়া সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমপক্ষে দুটি সুপারিশপত্র জমা দেওয়া প্রয়োজন।
আবেদনের সময়সূচি
২০২৭–২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হওয়ার কথা।
আবেদনের শেষ সময়: ২০ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪টা।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ
বাংলাদেশ এই বৃত্তির যোগ্য দেশের তালিকায় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য লন্ডনে সম্পূর্ণ অর্থায়নে মাস্টার্স করার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
তবে আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থিক অবস্থা, মনোনয়নকারী প্রতিষ্ঠানের শর্ত এবং আবেদনের সময়সীমা অবশ্যই যাচাই করে নিতে হবে।
লন্ডনে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের জন্য তাই এখন থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



