যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বহাল

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২৬

যুক্তরাজ্য সরকারের ‘ভিসা ব্রেক’ নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের করা আইনি চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। তবে রায় দিতে গিয়ে বিচারক স্বীকার করেছেন, এই নীতির কারণে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

গত মার্চে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আফগানিস্তান, সুদান, ক্যামেরুন ও মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য শিক্ষার্থী ভিসা স্থগিত করে। এর বিরুদ্ধে সুদান ও আফগানিস্তানের সাতজন সম্ভাব্য শিক্ষার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেন।

আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন রেজান ফারাহ। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োগিক ডিজিটাল স্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সুদানে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্য ছিল তাঁর। আরেক আবেদনকারী রাওয়ান আলি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে নারীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়তে চেয়েছিলেন। ভিসা স্থগিতের কারণে তিনি তাঁর ভর্তি ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত পিছিয়ে দেন।

হাইকোর্টের বিচারক কারেন স্টেইন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের পক্ষে রায় দেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের আশঙ্কা করা অযৌক্তিক ছিল না।

সরকারের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, স্থগিত করা দেশগুলো থেকে ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের পরবর্তী সময়ে আশ্রয়ের আবেদন করার ঝুঁকি অনেক বেশি। এতে শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার হতে পারে।

তবে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের আইনজীবীরা এ যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ভবিষ্যতে কেউ আশ্রয়ের আবেদন করবেন কি না, তার পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। নিজ নিজ দেশে উচ্চশিক্ষার সীমিত সুযোগের বিষয়টিও সরকার যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি বলে তারা আদালতে যুক্তি দেন।

তবে বিচারক স্টেইন এ যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি। তিনি বলেন, বিদেশে বৈষম্য বা উচ্চশিক্ষার সীমিত সুযোগের প্রভাব মোকাবিলার দায়িত্ব অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিধির ওপর বর্তায় না।

রায়ে বিচারক আরও বলেন, আবেদনকারীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে পড়াশোনা করার কোনো অধিকার বা বৈধ প্রত্যাশা নেই।

তবে মামলা খারিজ করলেও শিক্ষার্থীদের দাবির কিছু দিক যৌক্তিকভাবে আদালতে উত্থাপনযোগ্য ছিল বলে স্বীকার করেন বিচারক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ভিসা স্থগিতের নীতির গুরুতর প্রভাব রয়েছে এবং এর কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বিচারক স্টেইন বলেন, এই নীতির কারণে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অনেক মেধাবী ও সমাজসচেতন শিক্ষার্থীর আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেঙে গেছে। তাদের অনেকে বৃত্তি পেয়েছিলেন অথবা বৃত্তির জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন। উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া একজন ব্যক্তির ভবিষ্যৎ জীবনে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর নীতিটির প্রভাব এবং সম্ভাব্য পরিণতির গুরুত্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্তটি কঠোরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন ছিল।

আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে কয়েকজন আবেদনকারী আপিল করার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।