বিচার বিভাগীয় হেফাজতের আবেদন প্রত্যাহার করলেন সিজেপি নেতারা

ডেল্টা আর্ন্তজাতিক

ডেল্টা আর্ন্তজাতিক

প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২৬

ভারতের দিল্লি হাইকোর্টে বিচার বিভাগীয় হেফাজতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদন প্রত্যাহারের পথে গেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাংকা। বিকল্প আইনি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সরাসরি হাইকোর্টে আবেদন করায় বুধবার (২১ অক্টোবর) শুনানির সময় তাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আটক হন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাংকা। তাদের আটক রাখার বিষয়ে উপবিভাগীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) দেওয়া আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন তারা।

শুনানিতে বিচারকেরা প্রশ্ন তোলেন, বিকল্প আইনি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন আবেদনকারীরা সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত বলেন, এ বিষয়ে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে।

বিচারকেরা বলেন, ওই দিন দুপুর ২টায় এসইএমের সামনে বিষয়টির শুনানি হওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে হাইকোর্টে তড়িঘড়ি করে আসার প্রয়োজন কী? আদালত আবেদনকারীদের আবেদন প্রত্যাহার করে এসইএমের শুনানির ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। এরপর আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তারা।

শুনানির সময় আবেদনকারীদের বয়স নিয়েও কথা হয়। তাদের আইনজীবী অভিক চিমনি আদালতকে জানান, সৌরভ দাসের বয়স ২৭ বছর এবং আশুতোষ রাংকার বয়স ৩২ বছর। বিচারকেরা মন্তব্য করেন, তারা জেন-জি প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত নন। জেন-জি বলতে কী বোঝায়, সে বিষয়েও আদালতে আলোচনা হয়।

আদালত ১০ অক্টোবরের প্রতিবাদের প্রসঙ্গও তোলেন। শুনানিতে উল্লেখ করা হয়, ১১ অক্টোবর জামিনের মুচলেকা জমা দেওয়া হয়েছিল। একই দিনে জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং আবেদনকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বিচারকেরা জানতে চান, মুচলেকা দেওয়ার পরও আবেদনকারীরা জন্তর মন্তরে ফিরে গেলে এবং তাদের বিরুদ্ধে আবার শান্তি ভঙ্গের অভিযোগ উঠলে কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বার প্রতিরোধমূলক আটকের ক্ষেত্রে নতুন করে জামিনদার চাইতে পারে কি না।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, জন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চললেও ওই সিদ্ধান্তের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ ছিল না। ফলে সিদ্ধান্তটি কার্যকর ছিল। এরপরও সেখানে ফিরে গিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালানোর বিষয়টি শুনানিতে উঠে আসে।

এর আগে মঙ্গলবার সিজেপির আইনজীবীরা তাদের নেতাদের জামিনের আবেদনের জরুরি শুনানির জন্য দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

দিল্লি পুলিশের দাবি, ১৩ অক্টোবর সৌরভ দাস, আশুতোষ রাংকা, অজিঙ্ক্য শিন্ডে এবং সিজেপির আরও ১১ সদস্য ব্যক্তিগত সম্পত্তির মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করে জন্তর মন্তরে যান। সে সময় স্থানটি আর নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল ছিল না। ১৪ অক্টোবর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাংকাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পরে সোমবার তাদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়।