পাকিস্তানে আমলাদের দেশত্যাগের প্রবণতা, উদ্বেগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ডেল্টা আর্ন্তজাতিক
প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২৬
পাকিস্তানে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের প্রভাব বৃদ্ধির মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের অনেক আমলা চাকরিতে থাকা অবস্থায়ই কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
‘আমলাতান্ত্রিক দেশত্যাগ’ নিয়ে উদ্বেগ
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার প্রবণতাকে ‘আমলাতান্ত্রিক দেশত্যাগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, চাকরিতে থাকা অবস্থায় বিদেশে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেশের প্রতি আনুগত্য ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ পাকিস্তানি আমলাদের কাছে বসবাসের আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
খাজা আসিফের দাবি, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করা কর্মকর্তাদের অনেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে এ অভিযোগের সমর্থনে তিনি নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তার নাম বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা পিআর পেতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এক ব্যক্তি তাঁদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ্যে আসেনি।
কর্মকর্তাদের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন
বিদেশে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করা কর্মকর্তাদের পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য কতটা আন্তরিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাজা আসিফ।
তাঁর অভিযোগ, এসব কর্মকর্তা রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি বৈধ ও অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন। বিদেশে স্থায়ী হওয়ার আগে তাঁরা পাকিস্তানকে কেবল সাময়িকভাবে বসবাসের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করেছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
আসিম মুনিরের প্রভাব নিয়ে আলোচনা
পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার প্রবণতা নিয়ে এই বিতর্কের মধ্যে দেশটির বেসামরিক প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে।
ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটির বেসামরিক প্রশাসন ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সামরিক বাহিনীর প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন সরকারের ওপর সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পর মুনিরের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আসিম মুনিরের ক্রমবর্ধমান প্রভাব পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে এবং দেশটির গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার প্রবণতা নিয়ে খাজা আসিফের মন্তব্য পাকিস্তানের প্রশাসনিক জবাবদিহি, কর্মকর্তাদের আনুগত্য এবং বেসামরিক-সামরিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।



