আটক সু চির কাছে ব্রিটিশ রাজার চিঠি, সঙ্গে দুটি বই
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৩:৩২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২৬
মিয়ানমারের আটক নেত্রী অং সান সু চিকে দুটি বই ও একটি সিলমোহর করা চিঠি পাঠিয়েছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। সোমবার (১৯ অক্টোবর) মিয়ানমারের সামরিক সরকার এ তথ্য জানিয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সু চির হাতে বই ও চিঠি পৌঁছে দেওয়ার কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে দেশটির সামরিক সরকার। তবে চিঠিতে কী লেখা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
যে দুটি বই পাঠিয়েছেন রাজা চার্লস
সু চিকে পাঠানো বই দুটি হলো ব্রিটিশ উদ্যানবিদ ব্রিজেট এলওয়ার্থি ও হেনরিয়েটা কোর্টোল্ডের লেখা ‘সয়েল টু টেবিল’ এবং লন্ডনে গত বছর অনুষ্ঠিত একটি প্রদর্শনীর ক্যাটালগ ‘সয়েল: দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাট আওয়ার ফিট’। প্রথম বইটিতে মাটি ও খাদ্যের মধ্যকার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।
সামরিক সরকারের প্রকাশিত ছবিতে সু চিকে হালকা সবুজ রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও জলপাই রঙের স্কার্ট পরা অবস্থায় দেখা যায়। তিনি একটি টেবিলের ওপারে সাদা শার্ট পরা দুই ব্যক্তির সামনে বসেছিলেন।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর আটক সু চি
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর থেকে তিনি আটক রয়েছেন। বিভিন্ন অভিযোগে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর সু চিকে প্রথমে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে জুন মাসে তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়। গত আগস্টে মিয়ানমারের সরকার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির এক প্রতিনিধির সঙ্গে সু চির একটি ছবি প্রকাশ করে।
গণতন্ত্রের আন্দোলনে নোবেলজয়ী
মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অহিংস আন্দোলনের জন্য ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান অং সান সু চি। আটক অবস্থায় তিনি ধর্ম ও প্রকৃতিবিষয়ক বইসহ বিভিন্ন ধরনের বই পড়তেন বলে জানা যায়।
আড়াই বছর আগে ছেলেকে চিঠি লেখার পর বিদেশি কারও সঙ্গে সু চির যোগাযোগের এটিই প্রথম নিশ্চিত প্রমাণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লন্ডনে বসবাসরত তাঁর ছেলে কিম আরিস দীর্ঘদিন ধরে মায়ের মুক্তির দাবিতে প্রচার চালিয়ে আসছেন। গত আগস্টে সু চির ছবি প্রকাশের পর তিনি ওই খবরকে স্বাগত জানান।
এদিকে মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তাঁর জন্য বড় বাধা হয়ে রয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি আমেরিকার সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি।



