ফ্রান্স ছাড়িয়ে ইউরোপে ছড়াচ্ছে শিক্ষার্থীদের ‘বিসমিল্লাহ’ স্লোগান

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তা ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পরিচিত স্লোগানে পরিণত হয়েছে। ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’—এই বাক্য এখন দেশটির বিভিন্ন স্কুলের বাইরে বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাকার্ডে দেখা যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্লোগানটি বেলজিয়াম, ইতালি ও জার্মানিতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ইউরোনিউজের ১৯ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্লোগানটি প্রথমে স্ন্যাপচ্যাটে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্যারোডি ভিডিও ও বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকেও স্লোগানটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

স্লোগানটির অর্থ কী

‘বিসমিল্লাহ’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘আল্লাহর নামে’। অন্যদিকে ফরাসি কথ্য বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’ (C’est les ténèbres) বলতে বোঝানো হয় ‘এটাই অন্ধকার’ বা ‘এ এক অন্ধকার পরিস্থিতি’।

সব মিলিয়ে স্লোগানটির আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায়, ‘আল্লাহর নামে, এটাই অন্ধকার।’ বাক্যটির ভাষাগত গঠন কিছুটা অস্বাভাবিক। তরুণদের কথ্য ভাষায় ‘অন্ধকার’ শব্দটি হতাশাজনক, বিশৃঙ্খল বা ভয়াবহ পরিস্থিতি বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। স্লোগানটির অস্পষ্টতা ও ব্যতিক্রমী শব্দচয়নই এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেভাবে শুরু

ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ব্যবহৃত স্লোগানটির সূত্রপাত একটি স্ন্যাপচ্যাট বার্তা থেকে। অক্টোবরের শুরুতে বার্তাটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় শিক্ষার্থীরা স্কুল অবরোধের পরিকল্পনা করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি ব্যবহার করছিল।

বার্তায় ‘মামাদু’ নামের এক ব্যবহারকারী একটি গ্রুপে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। বার্তার সঙ্গে আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজিও ছিল।

একই ধরনের কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের স্থান এবং আতশবাজি ও স্মোক গ্রেনেড কোথায় পাওয়া যায়, তা জানতে চাওয়ার কথাও স্ক্রিনশটে দেখা যায়। এসব বার্তা দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সন্দেহ হয়, পুলিশ সদস্যরা কিশোর সেজে তাঁদের প্রতিবাদী গ্রুপে ঢোকার চেষ্টা করছেন।

তবে পুলিশ সত্যিই ছদ্মবেশে এসব গ্রুপে প্রবেশ করেছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরাসি পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটগুলোর সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কেন বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বে ক্রেতেই শহরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং শিক্ষকদের অনুপস্থিতিসহ বিভিন্ন সমস্যায় তাঁদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যার প্রতিবাদেই তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর বিক্ষোভের কারণে প্রায় ৪০০টি স্কুল বন্ধ ছিল। পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ১৭ অক্টোবর দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রভাব দেখা যায়। ওই বিক্ষোভের একপর্যায়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

ফ্রান্স ছাড়িয়ে অন্য দেশেও

ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা স্লোগানটি ইউরোপের অন্য দেশেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ৯ অক্টোবর বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভে স্লোগানটি লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসার তথ্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর গ্রেটা থুনবার্গ প্যারিসের উত্তরে সেন-সাঁ-দেনিস এলাকায় ধর্মঘটরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্লোগানটি ব্যবহার করেন। ১৫ অক্টোবর বোলোগনা এবং ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মিলানের বিক্ষোভেও এটি শোনা যায়।

এ ছাড়া জার্মানির বার্লিনে একটি ফরাসি স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্লোগানটি লেখা ব্যানার হাতে ছবি তুলতে দেখা গেছে। এভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অস্পষ্ট বাক্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে।