স্ট্যালিনকে হটিয়ে তামিলে বিজয়ের ‘ম্যাজিক’: নেপথ্যে সেই প্রশান্ত কিশোর
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২৬
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক ইতিহাস ওলটপালট করে দিয়ে জয়ের দ্বারপ্রান্তে দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেত্রি কাজগাম’ (টিভিকে)। নির্বাচনের প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, বিজয়ের দল ইতিমধ্যে ১০০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক এসেছে মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের নিজের কেন্দ্র কোলাথুরে, যেখানে ডিএমকের এই হেভিওয়েট প্রার্থী প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন।
নবাগত একটি দলের এমন অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে দেখা হচ্ছে ভারতের প্রখ্যাত ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরকে (পিকে)।
পরামর্শদাতা হিসেবে পিকের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ২০২১ সালে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতানোর পর প্রশান্ত কিশোর নিজের রাজনৈতিক দল ‘জন সুরাজ’ নিয়ে বিহারের ময়দানে নেমেছিলেন। তবে ২০২৫-এর বিহার নির্বাচনে তাঁর দল আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পিকে হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন যে নিজে সরাসরি রাজনীতি করার চেয়ে পরামর্শদাতা হিসেবে পর্দার আড়াল থেকে ঘুঁটি সাজানোতেই তিনি বেশি পারদর্শী। সেই উপলব্ধি থেকেই থালাপতি বিজয়ের উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর নতুন যাত্রা শুরু।
যেভাবে সাজানো হলো বিজয়ের রণকৌশল গেল বছর বিজয় যখন অভিনয় ছেড়ে রাজনীতিতে আসার ঘোষণা দেন, তখন থেকেই পিকে নীরবে কাজ শুরু করেন। নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে যেসব ভুল তিনি করেছিলেন, বিজয় যেন তা না করেন সেটি নিশ্চিত করাই ছিল পিকের প্রধান লক্ষ্য। পিকের দেওয়া কৌশলের মূল ভিত্তি ছিল তিনটি:
-
সংগঠন শক্তিশালী করা: শুধু বড় বড় জনসভা বা গ্ল্যামার নয়, তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় সংগঠনকে মজবুত করা।
-
আদর্শগত স্বচ্ছতা: দলের রাজনৈতিক আদর্শ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মানুষের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা।
-
ভুল থেকে শিক্ষা: বিহারের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরাসরি সংঘাতের চেয়ে মানুষের আবেগকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা।
ভবিষ্যদ্বাণী যখন সত্যি হলো গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রশান্ত কিশোর ঠাট্টার ছলে বলেছিলেন যে তিনি বিজয়কে জেতাবেন। আজকের নির্বাচনী ফলাফল সেই ভবিষ্যৎবাণীকেই বাস্তবে রূপ দিল। তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তি ডিএমকে-কে হটিয়ে এখন মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে বসার পথে অভিনেতা থালাপতি বিজয়। তামিল রাজনীতিতে আজ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যার চিত্রনাট্য লিখেছেন প্রশান্ত কিশোর।



