শি’র হুঁশিয়ারির পর তাইওয়ানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৪:৩৫ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠকের পর তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিং সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এবং পরবর্তীতে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি চাই না কেউ স্বাধীনতা ঘোষণা করুক।”

তাইওয়ানের স্বাধীনতা প্রশ্নে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।

এর আগে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেছিলেন, তাইওয়ানকে আলাদা করে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে হবে না, কারণ তারা নিজেদের আগেই একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, দুই নেতার বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বৈঠকে শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, “তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ভুলভাবে সামলানো হলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে।”

যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরেই তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণ করে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কও বজায় রেখেছে।

ট্রাম্প জানান, তাইওয়ান প্রসঙ্গে তিনি কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি দেননি। তিনি বলেন, “আমরা ৯ হাজার ৫০০ মাইল দূরে গিয়ে যুদ্ধ করতে চাই না। আমি চাই পরিস্থিতি শান্ত থাকুক। আমি চাই চীন শান্ত থাকুক।”

ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি ও শি জিনপিং তাইওয়ান নিয়ে “অনেক কথা” বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে কি না— সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান তিনি।

ট্রাম্পের ভাষায়, শি জিনপিং তাইওয়ান প্রশ্নে “খুবই দৃঢ় অবস্থানে” আছেন এবং “স্বাধীনতার কোনো আন্দোলন দেখতে চান না”।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য তাইওয়ান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অবস্থানকেই পুনর্ব্যক্ত করেছে। যদিও তাইওয়ানের জনগণের একটি বড় অংশ নিজেদের আলাদা জাতিসত্তা হিসেবে দেখে, তবুও বেশিরভাগ মানুষ বর্তমান অবস্থান বজায় রাখার পক্ষেই রয়েছে।