‘সম্মানজনক বিদায়’ চান কিয়ার স্টারমার, সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তরের ইঙ্গিত

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৭:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২৬

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দলীয় অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। তবে তিনি হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর বদলে ‘সুশৃঙ্খল’ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি সময়সূচি ঘোষণা করে সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে চান।

ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ডেইলি মেইল, স্টারমার স্বীকার করেছেন যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তাই তিনি নিজের পছন্দমতো সময় ও মর্যাদা বজায় রেখে দায়িত্ব ছাড়তে আগ্রহী।

প্রতিবেদনে এক মন্ত্রীর বরাতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঠিক করবেন। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কবে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে স্টারমারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা তাকে উপনির্বাচনের ফলাফল ও জনমত জরিপের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার একটি সূত্র জানিয়েছে, চিফ অব স্টাফ মরগ্যান ম্যাকসুইনি প্রধানমন্ত্রীকে আরও কিছুদিন দায়িত্বে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে স্টারমারের আরেক জ্যেষ্ঠ সমর্থক মনে করছেন, উপনির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং তা ব্যক্তিগতভাবে অপমানজনক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম–এর ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে। তার ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন, স্টারমার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন নির্বাচনী প্রচার চালানো রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টারমার প্রথমে মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা শুরু করলেও পরে তার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণভাবে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ–এর ঘনিষ্ঠদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস–এর সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং–এর পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তিনি এখন বুঝতে পারছেন যে দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে একের পর এক রাজনৈতিক সংকট সামলে উঠেছেন, সেই সুযোগ হয়তো আর নেই। এক সহযোগীর ভাষায়, “তিনি বুঝতে শুরু করেছেন যে তার শেষ জীবনটিও শেষ হয়ে গেছে।”