বিশ্বে এক নম্বর হয়েও কেন জনসংখ্যা বাড়াতে চায় ভারত?

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ২:২১ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২৬

বর্তমানে ১.৪২ বিলিয়ন জনসংখ্যা নিয়ে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হলেও, দেশটিতে জন্মহার দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং জনসংখ্যায় বার্ধক্য ও অর্থনৈতিক চাপ এড়াতে ছোট পরিবার গঠনের পুরনো নীতি থেকে সরে এসে দম্পতিদের বেশি সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে নগদ অর্থ ও দীর্ঘ ছুটির মতো বড় বড় প্রণোদনা ঘোষণা করছে দেশটির বেশ কিছু রাজ্য সরকার ও নীতিনির্ধারকেরা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভারতে প্রয়োজনীয় প্রজনন হার ২.১ থাকা দরকার হলেও নারীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ও গর্ভনিরোধকের ব্যবহার বাড়ায় এই হার ১৯৯২ সালের ৩.৪ থেকে কমে বর্তমানে ২-এ নেমে এসেছে।

যদিও জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী চার দশকে ভারতের জনসংখ্যা ১.৭ বিলিয়নে গিয়ে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছাবে, তবু এখনই জনসংখ্যা হ্রাসের এই প্রবণতা ঠেকাতে সক্রিয় হয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও হিন্দু গোষ্ঠীগুলো।

রয়টার্সের সূত্রমতে, এই লক্ষ্য নিয়ে দক্ষিণের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ঘোষণা করেছেন, পরিবারে তৃতীয় সন্তানের জন্মের জন্য এককালীন ৩০,০০০ রুপি এবং চতুর্থ সন্তানের জন্য ৪০,০০০ রুপি নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। একইভাবে উত্তর-পূর্বের ছোট রাজ্য সিকিমও জন্মহার বাড়াতে এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি, এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি ও আইভিএফ চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলের মূল উৎস ও শক্তিশালী হিন্দু গোষ্ঠী ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ (আরএসএস)-এর সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে সতর্ক করে বলেছেন, প্রজনন হার কমে আসার এই জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ভারসাম্যহীনতা ভবিষ্যতে সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। তবে একদিকে জন্মহার বাড়ানোর এই তোড়জোড় চললেও অন্যদিকে দেশটিতে উচ্চ যুব বেকারত্ব (১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৯.৯% এবং শহরাঞ্চলে ১৩.৬%) এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে চীন, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো জন্মহার কমানোর নীতি থেকে সরে এসে জনসংখ্যা বৃদ্ধির নীতিতে ফিরেছিল, এবার সেই একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে ভারত।