প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত সামরিক পুনর্গঠন করছে ইরান: সিএনএন
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৬
প্রায় ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতির মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই আবার ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে ইরান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চার ও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রব্যবস্থা পুনর্গঠনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত পুনর্গঠন করছে তেহরান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ড্রোন সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং বাড়াতে কাজ করছে ইরান। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই দেশটি পূর্ণমাত্রার ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীন ও রাশিয়া-এর সহায়তা এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম ক্ষয়ক্ষতির কারণে পুনর্গঠন দ্রুত সম্ভব হচ্ছে। সংঘাত চলাকালে চীন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ অব্যাহত রেখেছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে বেইজিং এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, ইরানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনো অক্ষত রয়েছে। এছাড়া দেশটির মোট ড্রোন সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ এখনো সক্রিয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেছেন, ইরান শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে ওয়াশিংটন আবারও হামলা চালাতে প্রস্তুত। জবাবে তেহরান জানিয়েছে, নতুন কোনো হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতেও পাল্টা আঘাত হানা হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর Pentagon দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, পুনর্গঠনের জন্য ইরানকে কয়েক বছর নয়, বরং কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইরানের দ্রুত সামরিক পুনর্গঠন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।



