জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে অন্ধকারে কিউবা, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২৬
ভয়াবহ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়ছে কিউবা। পানির অভাব, দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গ্যাস ও জ্বালানির সংকট, পেট্রলপাম্প বন্ধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতিতে দেশটির জনজীবন চরম সংকটে পড়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে কিউবা যে সংকটের মুখে পড়েছে, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুতর অবস্থার একটি।
জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরে কিউবার প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ফলে অনেক এলাকায় দিনে মাত্র ১ থেকে ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে বলে জানা গেছে।
অন্ধকারে শহর, বিকল্প জ্বালানিতে রান্না
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে বহু পরিবার আবারও কাঠ ও কয়লা জ্বালিয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা রাত নামলেই অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে।
গরমের কারণে অনেক মানুষ ছাদে বা খোলা জায়গায় রাত কাটাচ্ছেন। জ্বালানি সংকটে পেট্রলপাম্পগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, ফলে সড়কে যানবাহনও কমে গেছে।
খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতিও বেড়েছে। সরকারি দোকানগুলোতে পণ্যের সরবরাহ কম থাকায় সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ালেও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারছেন না।
বিশেষ করে চালসহ মৌলিক খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনজীবনে অস্থিরতা
বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দেশটির প্রায় এক কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও ক্ষুব্ধ মানুষ প্রতিবাদ ও ছোট পরিসরের বিক্ষোভও করেছেন।
রাজনৈতিক উত্তেজনা
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ অভিযোগ করেছেন, দেশটিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কিউবা কোনো দেশের জন্য হুমকি নয় এবং তাদের যুদ্ধের কোনো ইচ্ছা নেই।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিউবার সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হলেও হাভানা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
গভীর সংকটের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ, জ্বালানিনির্ভরতা এবং ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন কিউবাকে গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।



