বিদেশ ভ্রমণে শীর্ষে সুইডেন-নেদারল্যান্ডস, তলানিতে ভারত
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২৬
বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। ২৪টি দেশের মানুষের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া গেছে। কোনো কোনো দেশে প্রায় সবাই অন্তত একবার দেশের বাইরে গেছেন। আবার কিছু দেশে অধিকাংশ মানুষ এখনো বিদেশ ভ্রমণ করেননি।
বিদেশ ভ্রমণে সবচেয়ে এগিয়ে ইউরোপের দেশগুলো। সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসের ৯৯ শতাংশের বেশি মানুষ অন্তত একবার অন্য দেশে গেছেন। অর্থাৎ এসব দেশে বিদেশ ভ্রমণ সাধারণ জীবনযাত্রার অংশ হয়ে উঠেছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। ভৌগোলিক অবস্থান, তুলনামূলক ছোট আয়তন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তমুক্ত চলাচলের সুবিধা এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।
আমেরিকায় প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ অন্তত একবার দেশের বাইরে গেছেন। তবে নিয়মিত ও ব্যাপক আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে আমেরিকা ইউরোপের কয়েকটি দেশের তুলনায় পিছিয়ে। দেশটির প্রায় ১১ শতাংশ মানুষ ১০টি বা তার বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন।
তালিকার একেবারে শেষে রয়েছে ভারত। মাত্র ৩ শতাংশ ভারতীয় জানিয়েছেন, তারা অন্তত একবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক ভারতীয়র এখনো দেশের বাইরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই। ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে।
তবে সমীক্ষায় দেখা গেছে, সুযোগ পেলে অনেক ভারতীয় বিদেশ ভ্রমণ করতে চান। আবার প্রায় ২৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহী নন।
বিদেশ ভ্রমণের হার মানুষের আয় ও শিক্ষার ওপরও নির্ভর করে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের হার বেশি। একই দেশের মধ্যেও বেশি আয় করা মানুষের বিদেশ ভ্রমণের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।
আমেরিকায় বেশি আয় করা মানুষের ৯১ শতাংশ অন্তত একবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। অন্যদিকে কম আয়ের মানুষের মধ্যে এ হার ৬৬ শতাংশ। শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। বেশি শিক্ষিত মানুষের বিদেশ ভ্রমণের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২৪টি দেশের গড় হিসাবে ৩৪ শতাংশ মানুষ এক থেকে চারটি দেশ ভ্রমণ করেছেন। ১৭ শতাংশ মানুষ পাঁচ থেকে নয়টি দেশ এবং ১৩ শতাংশ মানুষ ১০টি বা তার বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন। সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ১০টি বা তার বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যারা বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন, তারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের সাথে নিজেদের বেশি সংযুক্ত মনে করেন। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ শুধু পর্যটনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আগ্রহ বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।



