শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে বাজেট, ভিসা ও প্রস্তুতি

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৫১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২৬

পাহাড়, সমুদ্র, চা-বাগান, প্রাচীন নিদর্শন ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশিদের কাছে জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর একটি শ্রীলঙ্কা। ২০২৫ সালে প্রায় ৬০ হাজার বাংলাদেশি দেশটি ভ্রমণ করেছেন। ভ্রমণকে সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যেতে পারে।

যাতায়াত

ঢাকা থেকে কলম্বোতে সরাসরি ফ্লাইটে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস ছাড়াও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, থাই এয়ারওয়েজ, ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে যাওয়া যায়। আগেভাগে টিকিট কাটলে খরচ কম হয়। ইকোনমি ক্লাসে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে থাকে।

কোথায় ঘুরবেন

সাত দিনের ভ্রমণে কলম্বো, গল, ক্যান্ডি, নুয়ারা এলিয়া ও এলা ঘুরে দেখা সম্ভব। সমুদ্র, পাহাড় ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে এ রুটটি পর্যটকদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। পর্যটনের মৌসুমে হোটেল, রিসোর্ট ও গাড়ি আগে থেকেই বুকিং করে রাখা ভালো।

স্থানীয় যাতায়াত

শ্রীলঙ্কায় মোটরসাইকেল, স্কুটি ও টুকটুক ভাড়া পাওয়া যায়। তবে সেগুলো চালাতে বিশেষ পারমিট প্রয়োজন। বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে অনলাইনে আবেদন করে প্রায় ৫ হাজার টাকায় পারমিট নেওয়া যায়।

ভিসা

শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) নিতে হয়। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করা যায়। চাইলে ঢাকার গুলশান-২-এ অবস্থিত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনের মাধ্যমেও আবেদন করা সম্ভব। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশিদের জন্য ইটিএ ফি ২০ মার্কিন ডলার। অনলাইনে অর্থ পরিশোধে সমস্যা হলে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করা যায়, এতে অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। ভ্রমণের সময় ইটিএ অনুমোদনের প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখা উচিত।

খরচ

শ্রীলঙ্কান রুপির মূল্য বাংলাদেশি টাকার তুলনায় কম। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাওয়া যায় প্রায় ৩১০ শ্রীলঙ্কান রুপি। বিমানবন্দর থেকেই বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় করা সুবিধাজনক। তবে দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক বেশি। আধা লিটার পানির বোতলের দাম প্রায় ৩০০ রুপি এবং সাধারণ একটি রেস্তোরাঁয় এক বেলার খাবারে গড়ে ১ হাজার ৫০০ রুপি পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে বাজেট পরিকল্পনা করে নেওয়া ভালো।

যা সঙ্গে রাখবেন

নুয়ারা এলিয়া ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়া তুলনামূলক ঠান্ডা, তাই গরম কাপড় সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। এলা থেকে ক্যান্ডি পর্যন্ত ট্রেন ভ্রমণ শ্রীলঙ্কার অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণ। চাকরিজীবীদের ভ্রমণের সময় প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তিপত্র (এনওসি), হোটেল বুকিং, ট্রাভেল আইটিনারি এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ সঙ্গে রাখা উচিত। ইমিগ্রেশনে এসব নথি চাইতে পারে।

ডলার এনডোর্সমেন্ট

বিদেশ ভ্রমণের আগে পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্স করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের জন্য এক সফরে সর্বোচ্চ ২০০ মার্কিন ডলার এনডোর্স করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকের নীতিমালা অনুসরণ করে দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ১২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত এনডোর্সমেন্টের সুবিধাও রয়েছে।

সঠিক পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বাজেট প্রস্তুত থাকলে শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ হতে পারে স্মরণীয় ও ঝামেলামুক্ত এক অভিজ্ঞতা।