বর্ষায় ঘুরে আসুন দার্জিলিংয়ের অফবিট গ্রাম মাজুয়া
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৬
বর্ষায় পাহাড়ের সৌন্দর্য যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। মেঘ, বৃষ্টি আর সবুজের মেলবন্ধনে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি অঞ্চল হয়ে ওঠে আরও মোহনীয়। এমনই এক নিরিবিলি ও অফবিট পর্যটনকেন্দ্র হলো মাজুয়া—যা দার্জিলিংয়ের সিঙ্গালিলা ফরেস্ট রেঞ্জের কোলে অবস্থিত।
পর্যটকদের কোলাহল থেকে দূরে থাকা এই গ্রাম প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চারদিকে ঘন বন, পাহাড়ি ঝর্ণা এবং খরস্রোতা নদীর শব্দ মিলিয়ে তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। স্থানীয় হোমস্টে, কাঠের কটেজ ও ট্রি হাউসে অবস্থান করে ভ্রমণকারীরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন কাছ থেকে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৪২ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মাজুয়া নির্জনতা পছন্দ করা ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাওয়াজি খোলা নদীর তীরে বসে কিংবা পাথরের ওপর পা ডুবিয়ে কাটানো যায় প্রশান্তিময় সময়। সকালে শোনা যায় হিমালয়ান পাখির কূজন, আর সন্ধ্যায় পোকামাকড়ের শব্দে তৈরি হয় প্রকৃতির এক ভিন্ন আবহ।
স্থানীয় লেপচা সম্প্রদায়ের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও রয়েছে এখানে। পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্কের জঙ্গলের ট্রেইলে হাইকিং করতে পারেন। শীতকালে আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে দেখা যায় বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা।
শিলিগুঁড়ি থেকে মাজুয়ার দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার, যা গাড়িতে যেতে সময় লাগে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা। এছাড়া মানেভঞ্জন থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার এবং দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রাম।
তবে বর্ষাকালে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। এ সময় জোঁকের উপদ্রব বেশি থাকায় সঙ্গে নুন বা তামাক পাতা রাখা, পাশাপাশি ছাতা ও রেনকোট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রকৃতির একান্ত সান্নিধ্যে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে কয়েকটি দিন কাটাতে চাইলে দার্জিলিংয়ের অফবিট গ্রাম মাজুয়া হতে পারে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য অনন্য এক গন্তব্য।



