নীল সমুদ্রের দেশ মালদ্বীপ, বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ভ্রমণ সুবিধা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২৬

নীল সমুদ্র, সাদা বালুর সৈকত এবং বিলাসবহুল রিসোর্টের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত মালদ্বীপ বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছেও অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। দেশটিতে ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বাংলাদেশি নাগরিকরা পৌঁছেই ৩০ দিনের অন-অ্যারাইভাল ভিসা পান। এজন্য আগে থেকে দূতাবাসে ভিসার আবেদন করার প্রয়োজন হয় না।

তবে অন-অ্যারাইভাল ভিসা পেতে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ ভ্রমণের তারিখ থেকে কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে। এছাড়া হোটেল বা রিসোর্ট বুকিংয়ের প্রমাণ, পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতার তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রতিদিনের জন্য কমপক্ষে ৩০ ডলার ব্যয়ের সক্ষমতা দেখাতে হয়। প্রয়োজন হলে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ভিসার মেয়াদও বাড়ানো যায়।

মালদ্বীপের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার ভেলানা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, যা রাজধানী মালের কাছে অবস্থিত। বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন দ্বীপে যেতে স্পিডবোট, সি-প্লেন এবং ফেরি সার্ভিস চালু রয়েছে। অধিকাংশ রিসোর্টে পৌঁছাতে স্পিডবোট বা সি-প্লেন ব্যবহার করতে হয়।

থাকার ক্ষেত্রে পর্যটকদের জন্য বাজেট গেস্টহাউস থেকে শুরু করে বিলাসবহুল রিসোর্ট—দুই ধরনেরই ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানীয় দ্বীপে অবস্থান করলে খরচ তুলনামূলক কম হয়, আর রিসোর্টে থাকতে ব্যয় অনেক বেশি। ভ্রমণের আগে হোটেল বা রিসোর্টের বুকিং নিশ্চিত করে তার কনফার্মেশন কপি সঙ্গে রাখা উচিত।

মালদ্বীপে খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি। সাধারণ একটি খাবারের জন্য ১০ থেকে ১৫ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এছাড়া স্থানীয় দ্বীপে অ্যালকোহল বিক্রি করা হয় না; এটি কেবল পর্যটন রিসোর্টগুলোতে পাওয়া যায়।

ভ্রমণকে আরও নিরাপদ করতে ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, ফিশিং, আইল্যান্ড হপিংসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক বিনোদনমূলক কার্যক্রম মালদ্বীপে পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

অন-অ্যারাইভাল ভিসা, মনোরম সমুদ্রসৈকত এবং বাজেট থেকে বিলাসবহুল—সব ধরনের ভ্রমণ সুবিধা থাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মালদ্বীপ হতে পারে একটি সহজ ও আকর্ষণীয় আন্তর্জাতিক গন্তব্য। তবে যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় নথি ও ভ্রমণ পরিকল্পনা ঠিকভাবে প্রস্তুত রাখাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।