ভারতের চকোলেট শহর উটি, কেন এত জনপ্রিয় পর্যটকদের কাছে?
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২৬
দক্ষিণ ভারতের নীলগিরি পাহাড়ের কোলে অবস্থিত উটি (Ooty) প্রকৃতি, শীতল আবহাওয়া এবং হাতে তৈরি চকোলেটের জন্য পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। কুয়াশায় মোড়া পাহাড়ি পথ, ইউক্যালিপটাসের সুবাস আর সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে অনেকেই উটিকে ভারতের ‘চকোলেট শহর’ বলে থাকেন।
উটির অন্যতম আকর্ষণ এখানকার হাতে তৈরি চকোলেট। নীলগিরির ঠান্ডা আবহাওয়া চকোলেট তৈরির জন্য উপযোগী হওয়ায় অতিরিক্ত শীতলীকরণের প্রয়োজন হয় না। স্থানীয় দুগ্ধশিল্পের তাজা দুধ ও ক্রিম দিয়ে তৈরি ডার্ক চকোলেট, ফ্রুট-এন-নাট এবং বিভিন্ন ফ্লেভারের চকোলেট ভ্রমণকারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
চ্যারিং ক্রস, কমার্শিয়াল রোড এবং স্থানীয় বাজারের ছোট ছোট দোকানগুলোতে চকোলেট তৈরির প্রক্রিয়াও সরাসরি দেখা যায়, যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
তবে উটির সৌন্দর্য শুধু চকোলেটেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউক্যালিপটাসে ঘেরা বন, সুপরিচর্যিত বোটানিক্যাল গার্ডেন, মনোরম উটি লেক এবং শান্ত পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। এছাড়া ইউনেস্কো স্বীকৃত নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে ভ্রমণ উটির অন্যতম জনপ্রিয় অভিজ্ঞতা।
উটি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে জুন। এ সময় আবহাওয়া থাকে আরামদায়ক, ফলে সমতলের গরম এড়িয়ে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে ভিড় করেন।
যোগাযোগের দিক থেকেও উটি বেশ সুবিধাজনক। কোয়েম্বাটুর বিমানবন্দর উটি থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে ট্যাক্সি বা বাসে সহজেই পৌঁছানো যায়। আর ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা চাইলে মেট্টুপালায়ম থেকে ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে নীলগিরির পাহাড়ি পথ পেরিয়ে উটি পৌঁছানো পর্যটকদের কাছে এক স্মরণীয় ভ্রমণ হয়ে ওঠে।
প্রকৃতি, ইতিহাস, শীতল আবহাওয়া এবং বিখ্যাত হাতে তৈরি চকোলেট—সব মিলিয়ে উটি আজও ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটন গন্তব্য হিসেবে ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।



